ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (বিস্তরিত)

6
152
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম – বন্ধুরা আমরা অনেক দিন আগে থেকেই ই পাসপোর্ট এর নাম শুনে আসতেছি। যদিও গত বছর ২০১৯ সালের জুলাই মাসের দিকে আমাদের দেশে ই পাসপোর্ট চালু হওয়ার কথা ছিলো। তবে, নানা সমস্যায় জন্য সেটা চালু হয়নি।

সব শেষে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে ই পাসপোর্ট এর শুভ উদ্বোধন করেন। তখন থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রাপ্ত নাগরিক সকল শর্ত পূরণ করে ই পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ এবং বিশ্বের ১২০ তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করলো ই পাসপোর্টের যুগে। ১৯৯৬ সালে প্রথম এই প্রযুক্তি এনেছিলো মালয়েশিয়া।

অনেকে হয়তো ই পাসপোর্ট এর ব্যাপারে এখনো পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারেনি। চলুন তাহালে নিচে থেকে জেনে আসি ই পাসপোর্ট বলতে কি বুঝায়।

ই পাসপোর্ট কি?

ই পাসপোর্ট অনেকটা দেখতে এটিএম কার্ড (ATM Card) এর মতো ও চেক বইয়ের মতো। তবে, চেক বই ব্যবহার করে গ্রহকরা যেমন নিজে নিজে টাকা তুলতে পারে না, এতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাক্ষর ও সীল ইত্যাদি লাগে।

কিন্ত, গ্রহকরা এটিএম কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকরা কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়া নিজে নিজে বুথ থেকে টাকা তুলতে পারে। এই ই পাসপোর্ট সার্ভিসটা অনেকটা এটিএম কার্ডের মতো।

E passport হলো এমন একটি পাসপোর্ট যাতে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো চিপ লাগানো থাকে। তবে, পাসপোর্ট বইটি দেখে তেমন কিছুই বোঝা যাবে না। আর এটা দেখতেও কিছুটা এমআরপি (MRP) পাসপোর্টের মতো দেখাবে।

তবে, এর মধ্যে সংযুক্ত করা চিপটি এমআরপি আর ই পাসপোর্ট এর মধ্যে অন্যতম পার্থক্য তৈরি করেছে। এই চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য। যেখানে পাসপোর্টকারীর সকল তথ্য দেওয়া রয়েছে।

এই পাসপোর্টে যে সকল বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষক করা থাকবে সেটা হলো, পাসপোর্টকারীর ৩ ধরনের ছবি, চোখের আইরিশ, দুই হাতের ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট।

আশাকরি, সহজে বুঝতে পারছেন ই পাসপোর্ট কি বা কাকে বলে? (what is e passport in bangla). এবার চলুন নিচে থেকে জেনে আসি ই পাসপোর্ট করার নিয়ম সম্পর্কে।

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম

আপনি ই পাসপোর্ট করা জন্য https://epassport.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে পাসপোর্ট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নেওয়া পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আপনি সহজ ৫ ধাপে ই পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন।

ই পাসপোর্ট আবেদন কিভাবে করবেন?

ধাপঃ ১

প্রথমে আপনাকে জানতে হবে আপনার জেলা বা আঞ্চালিক পোষ্ট অফিসে ই পাসপোর্ট এর কাজ শুরু হয়েছে কিনা। এই কার্যক্রম প্রথমে শুরু হবে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে। এর পরে পর্যায়ক্রমে আঞ্চালিক অফিস গুলোতে শুরু হবে।

যদি নিজের জেলাতে কার্যক্রম শুরু হয়, তাহালে অনলাইনে আবেদন করার জন্য এই “লিংকে” ক্লিক করে আপনার বর্তমান ঠিকানা অনুসারে থানা, জেলার নাম তালিকায় অন্তভুক্ত করুন।

ধাপঃ ২

অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম pdf ডাউনলোড করুন এবং পূরণ করে অনলাইনে পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করুন। আপনি এখানে ই পাসপোর্ট ফরম pdf এডিটের মাধ্যমে পূরণ করে প্রিন্ট করে নিন।

মনে রাখবেন, হাতে লেখা ফরম কখনো কার্যকরী হবে না। তাই আপনাকে আবেদন ফরম কম্পিউটারে পূরণ করতে হবে। পূরণকৃত ফরম প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাজগ পত্র নির্বাচিত পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

ধাপঃ ৩

এবার আপনাকে পাসপোর্ট এর ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট ফ্রি প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি নিদিষ্ট ব্যাংক বা অনলাইন ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ সহ অন্যান্য মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি প্রদান করতে পারবেন।

আর আপনি যদি ব্যাংকের মাধ্যমে পাসপোর্টের ফি প্রদান করতে চান, তাহালে অবশ্যই পাসপোর্ট এর আবেদন ফরম সাথে করে নিয়ে যাবেন।

ধাপঃ ৪

আবেদন ফরম পূরন করে এবং পাসপোর্ট ফি প্রদান করে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া জন্য নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার জন্য যাওয়ার সময় অবশ্যই মনে করে আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি, পেমেন্ট স্লিপ, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ, যদি পুরাতন পাসপোর্ট থাকে সহ বাকি অন্যান্য কাগজপত্র সাথে নিয়ে যাবেন।

পাসপোর্ট অফিসে আপনি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সরবরাহকৃত ডেলিভারি স্লিপ সংরক্ষণ করুন। কারণ, আপনার মূল্যাবান পাসপোর্ট গ্রহনের সময় এই স্লিপ অবশ্যই প্রর্দশন করতে হবে।

ধাপঃ ৫

শেষে পাসপোর্ট নেওয়া সময় আপনাকে স্বশরীরে স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে হাজির হতে হবে। এবং উক্ত স্লিপ দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট প্রদনের সময় আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিল আছে কিনা সেটা পরিক্ষা করে দেখা হবে।

ই পাসপোর্ট ফরম পূরণের নির্দেশনা

  • ই পাসপোর্টেরর ফরম অনলাইনে pdf ফাইল ডাউনলোড করে এডিট করে পূরণ করতে হবে।
  • আবেদন করার সময় সাথে কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই।
  • ফরমে আপনার কোনো ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন হবে না।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তথ্য অনুসারে আপনাকে আবেদন করতে হবে।
  • ১৮ বছরের নিচে যার NID Card নেই তার অবশ্যই পিতা মাতার NID কার্ড নাম্বার উল্লেখ্য করতে হবে।
  • তারকা চিহ্নিত অপশান গুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ / বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।
  • ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের বেশি সকল আবেদনকারীর ই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার।
  • ই পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষে রি-ইস্যুর করার জন্য মূল পাসপোর্ট প্রদশন করতে হবে।
  • ই পাসপোর্ট চুরি বা হারিয়ে গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিকটতম থানায় জিডি করতে হবে, এবার আপনি যদি নতুন ই-পাসপোর্ট নিতে চান তাহালে পুরানো ই-পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জিডির কপি সহ আবেদন করতে হবে।

ই পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

অনেকের তাদের ই পাসপোর্ট আবেদন করার পরেও মনে মনে চিন্তায় থাকে সব কিছু তথ্য সঠিক  ভাবে দিয়েছি কিনা। এই চিন্তা মন থেকে দুর করার জন্য আপনি ই পাসপোর্ট আবেদন চেক করতে পারবে।

তাছাড়া, আপনার আবেদন কি পযায় রয়েছে সেটা চেক করার জন্য প্রথমে ই পাসপোর্টের ওয়েবসাইটে লগইন করতে হবে। এবার ওয়েবসাইটে চেক অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস অপশনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনাকে আবেদন করার সময় যে আইডি নাম্বার দিয়েছিলো ঔ আইডি নাম্বার দিয়ে আপনি ই পাসপোর্ট চেক করতে পারবেনম।

ই পাসপোর্ট করার খরচ ও মেয়াদ

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের জন্য ই পাসপোর্ট খরচ ও মেয়াদ

  • সাধারন খরচ ৩০০০ টাকা ১৫ দিনে ডেলিভারি। 
  • জরুরি খরচ ৫০০০ টাকা ৭ দিনে ডেলিভারি। 
  • অতি জরুরি ৭৫০০ টাকা ২ দিনে ডেলিভারি।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছরের জন্য ই পাসপোর্ট খরচ ও মেয়াদ

  • সাধারন খরচ ৫০০০ টাকা ১৫ দিনে ডেলিভারি। 
  • জরুরি খরচ ৭০০০ টাকা ৭ দিনে ডেলিভারি। 
  • অতি জরুরি ৯০০০ টাকা ২ দিনে ডেলিভারি।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছরের জন্য ই পাসপোর্ট খরচ ও মেয়াদ

  • সাধারন খরচ ৭০০০ টাকা ১৫ দিনে ডেলিভারি। 
  • জরুরি খরচ ৯০০০ টাকা ৭ দিনে ডেলিভারি। 
  • অতি জরুরি ১২০০০ টাকা ২ দিনে ডেলিভারি।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

  • ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID).
  • জন্ম নিবন্ধন পত্র।

এই ই পাসপোর্ট আবেদন ফরমটি আপনারা ওয়েবসাইট থেতে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এবং অবশ্যই ই পাসপোর্ট ফরম pdf ডাউনলোড করে এডিট করে পূরণ করবেন।

ফরমটি অবশ্যই নিজের জাতীয়পত্র (NID) এর তথ্য অনুসারে পূরণ করতে হবে। এখানে কোনো কাগজপত্র, ছবি সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই। আবেদন যথাযথা অফিসে যাওয়ার পরে দুই হাতের ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি নেওয়া হবে।

যথাযথা সময়ে পুলিশ ভেরিফিকোশন করা হবে। আর আবেদনকারীর বয়স যদি ১৮ বছরের নিচে হয়, তাহালে অবশ্যই পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাম্বার উল্লেখ করতে হবে।

ই পাসপোর্ট এর সুবিধা

ই পাসপোর্টের সব থেকে বিশেষ সুবিধা হলো ই পাসপোর্টধারীরা বিশেষ ই গেট ব্যবহার করে অনেক দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। এদেরকে ভিসা চেকিং এর জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

যেকারণে অনেক দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হবে। আপনার ই পাসপোর্ট ই গেটের নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে ছবি তুলে নেওয়া হবে। এর পরে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে। কোনো সমস্য না থাকলে দ্রুত ভেরিফিকোশন প্রক্রিয়া সম্পর্ন হয়ে যাবে।

আর যদি কোনো সমস্য থাকে তাহালে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। সমস্য সমাধান না করা পর্যন্ত উক্ত ব্যাক্তিকে ইমিগ্রেশন পার হতে দেওয়া হবে না। এই পদ্ধতি ৪৮ লেয়ার বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যাবস্থা থাকার কারণে কোনো জাল পাসপোর্টকারী ইমিগ্রেশন অতিক্রম করতে পারবে না।

এবার প্রশ্ন হলো যাদের এম আর পি (MRP) মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট  রয়েছে তাদের কি হবে?

আপনারা যারা এম আর পি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) ব্যবহার করছেন তাদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্য হবে না। আর নতুন করে কেউ এই পাসপোর্ট করতে পারবেন না। এখন থেকে যারা পাসপোর্ট করবেন তাদের সবার ই পাসপোর্ট করবেন।

আর যাদের এমআইপি (MRP) এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা যখন পাসপোর্ট রিনিউ করবেন তখন সব তথ্য যাচাই করে তাদেরকে ই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এভাবে ধীরে ধীরে সকল এমআরপি গুলো তুলে নেওয়া হবে।

আজকে আমরা কি শিখলাম

তাহালে, বন্ধুরা আজকে আমরা শিখলাম ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এর ব্যাপারে। আপনাদের যদি ই পাসপোর্ট সম্পর্কে আর কোনো বিষয়ে তথ্য জানার থাকে তাহালে এই https://epassport.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারবেন।

6 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে