এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম 2022 (সহজ উপায়)

বন্ধুরা যখন প্রশ্ন আছে এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম কি? তখন এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আগে আপনাদের জানতে হবে এটিএম কার্ড কি? এটিএম কার্ড কত প্রকার ও কি কি এর ব্যাপারে।

আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা জানেন না এটিএম কার্ড মানে কি? যারা জানেন না তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি।

এটিএম কার্ড (ATM Card) কি? (What is ATM Card in Bangla)

ATM Card হলো এমন একটি কার্ড যার মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোনো দেশে লেনদেন করতে পারবেন। আমরা মানি ব্যাগে যে টাকা নিয়ে চলাফেরা করি, এই টাকার পরিবর্তে আপনি এটিএম কার্ড সাথে নিয়ে চলবেন।

আপনার কাছের টাকা গুলো এই কার্ডে জমা থাকবে এবং নিজের প্রয়োজন মতো যখন খুশি উত্তোলন করতে পারবেন।

বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাক্তিরা ATM Card ব্যবহার করেন। কারণ, এর মাধ্যমে লেনদেন করা রিস্ক কম। আপনি বিভিন্ন শপিংমল থেকে কেনাকাটা করে এই কার্ডের মাধ্যমে বিল পেমেন্ট করতে পারবেন।

সহজে বলতে গেলে, যে কার্ডে আমাদের ব্যাংকের নগদ অর্থ জমা থাকে এবং আমাদের প্রয়োজনে যখন খুশি উত্তোলন বা ব্যবহার করা যায় সেটাই হলো এটিএম কার্ড।

আশাকরি আপনারা সহজে বুঝতে পারছেন এটিএম কার্ড কি বা এটিএম কার্ড মানে কি এর ব্যাপারে।

এটিএম কার্ড কত প্রকার ও কি কি?

এটিএম কার্ড কার্ডকে ২ (দুই) ভাগে করা যায়। এর  মধ্যে একটি হলো ডেবিট কার্ড এবং অপরটি হলো ক্রেডিট কার্ড। এই দুই প্রকার কার্ডের কাজ আলদা আলদা।

অর্থ্যাৎ এক একটি কার্ড এক একটি কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা উপর থেকে জানলাম ATM Card দুই প্রকার, যথা –

  • ডেবিট কার্ড
  • ক্রেডিট কার্ড

বর্তমানে এমন অনেক ব্যাক্তিরা আছেন যারা এই দুই প্রকার কার্ডের সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। অর্থ্যাৎ তারা এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে ভালো ভাবে জানেন না।

তাই, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে একটু  আলোচনা করবো যাতে আপনারা সহজে বুঝতে পারেন।

ডেবিট কার্ড কি?

আপনার ব্যাংক একাউন্টের ডেবিট কার্ডে যত টাকা জমা থাকবে আপনি সেই টাকা গুলো উত্তোলন বা খরচ করতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ যে কার্ডে আপনার জমানো টাকা থাকবে এবং ঐ জমানো টাকা খরচ করতে পারবেন এই ধরনের কার্ডকে ডেবিট কার্ড বলে।

মনে রাখবেন, ক্রেডিট কার্ডের মতো আপনি ডেবিট কার্ডে অতিরিক্ত টাকা ধার নিতে পারবেন না।

ক্রেডিট কার্ড কি?

যে কার্ডের মাধ্যমে আপনি জমাকৃত টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা লেনদেন বা খরচ করতে পারবেন, সেই কার্ডকে বলা হয় ক্রেডিট কার্ড।

মনে করুন, আপনার ব্যাংক একাউন্টে ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। এখন আপনি কেনাকাটা করতে করতে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ করে ফেলছেন।

তখন আপনি ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা গুলো ধার হিসাবে নিতে পারবেন। অর্থ্যাৎ যে যে কার্ডে জমাকৃত টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা টাকা ধার হিসাবে নিয়ে লেনদেন করা যায়, সেই কার্ডকে বলা হয় ক্রেডিট কার্ড।

কিভাবে এটিএম কার্ড পাবেন?

আপনার যদি একটি এটিএম কার্ড থাকে তাহলে আপনি ঘরে বাহিরে সব জায়গা থেকে লেনদেন করতে পারবেন। কিন্ত এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে একটি এটিএম কার্ড পাব?

এটিএম কার্ড (ATM Card) পাবার জন্য নিচের কাজ গুলো অনুসারণ করুন।

  • প্রথমে আপনাকে যেকোনো একটি ব্যাংকে Bank Account খুলতে হবে।
  • তারপর ব্যাংক থেকে এটিএম কার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে।
  • কার্ড সংগ্রহ করার সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস গুলো জমা দিতে হবে।
  • যখন ব্যাংক কর্তপক্ষ আপনাকে কার্ডটি দিবে তখন ঐ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।

অনেক সময় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সাথে সাথে এটিএম কার্ড দেয় না, কিছু দিন সময় নিয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু ব্যাংক থেকে একাউন্ট খোলার সাথে সাথে এটিএম কার্ড প্রদান করে।

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যখন ব্যাংক থেকে একটি এটিএম কার্ড সংগ্রহ করবেন, তখন অবশ্যই আপনাকে এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে।

যদি আপনি এটিএম কার্ড ব্যবহার করার নিয়ম গুলো অমান্য করেন, তাহলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

যেমন,

আপনার এটিএম কার্ডের ৪ সংখ্যার গোপন পিন (pin number) নম্বর কারও সাথে শেয়ার করবেন না। কারণ, এই গোপন পিন কার্ডের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি কারও সাথে বলবেন না।

যখন আপনি কার্ড থেকে টাকা উত্তোলন করবেন তখন আপনি এটিএম বুথে যেতে হবে। এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার নিয়ম আমি আগের আর্টিকেলে বিস্তারিত ভাবে বলেছি।

আপনার কার্ডটি এটিএম মেশিনের সাথে কানেক্ট করে গোপন পিন নম্বর দিয়ে ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন বা জমা করতে পারবেন। মনে রাখবেন, এটিএম মেশিন থেকে শুধু টাকা উত্তোলন করা যায় না বরং টাকা জমাও করা যায়।

মনে রাখবেন, কিছু কিছু এটিএম মেশিন রয়েছে যার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন বা লেনদেন করার জন্য ATM Card কে সুইপ করাতে হয়।

প্রথম প্রথম ATM Card ব্যবহার করার নিয়ম একটি কঠিন মনে হলেও এটা ব্যবহার করা কিন্ত তেমন কঠিন কিছুই না। কিছুদিন একটু ট্রায় (try) করলে নিজে থেকে সব কিছু বুঝতে পারবেন।

এটিএম কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা ও অসুবিধা

এটিএম কার্ড ব্যবহারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। কিন্ত সবার ক্ষেত্রে এই সুবিধা ও অসুবিধা গুলো একই মনে নাও হতে পারে। 

কারণ, আমার ব্যাক্তিগত কিছু বিষয় বিশেষ করে নজরে এসেছে। সেগুলো আজকে আলোচনা করবো।

এটিএম কার্ডের সুবিধা গুলো –

  • ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সহজে লেনদেন করতে পারবেন।
  • এই কার্ড ব্যবহার করার ফলে আপনাকে নগদ অর্থ সাথে করে বহন করতে হবে না, প্রচুর পরিমানে অর্থ আপনি কার্ডে নিয়ে ঘুরতে পারবেন।
  • বিভিন্ন শপিংমল, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, বিল পেমেন্ট সহ আরো বিভিন্ন ধরনের কাজ সস্পর্ন করতে পারবেন।
  • সপ্তাহে ৭ দিন যেকোনো সময় রাতে বা দিনে বুথ থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারবেন।

এটিএম কার্ডের অসুবিধা –

  • এটিএম এর ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি অতিরিক্ত টাকা লেনদেন করার কারণে আপনি ব্যাংকের কাছে ঋণ হয়ে যাবেন।
  • যদি আপনার কার্ডের গোপন পিন নম্বর কেউ জেনে যায়, তাহলে আপনার অজান্তে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে।
  • প্রতি বছর এটিএম কার্ডের নিদিষ্ট পরিমানে চার্জ প্রদান করতে হয়।

আসলে এটিএম কার্ড ব্যবহারের এই সুবিধা ও অসুবিধা গুলো আমার নজরে এসেছে। এই সুবিধা ও অসুবিধা গুলো একেক জনের কাছে একেক রকম মনর হতে পারে।

শেষ কথা

আজকের আর্টিকেলের বিষয় বস্তু এটিএম কার্ড (ATM Card) কি এবং এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম। আশাকরি লেখাটি আপনারা সহজে বুঝতে পারছেন।

এই সম্পর্কে যদি আপনার কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। এর সাথে আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap