ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন 2022

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন সেটা আগে জানতে হবে।

আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন সেটার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। 

এই সম্পর্কে যদি আপনার জ্ঞান না থাকে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়রের মাঝ পথে গিয়ে এই কাজ আর ভালো নাও লাগতে পারে।

বর্তমানে সব থেকে আলোচিত শব্দ হলো Freelancing. এই পেশায় কম শ্রম দিয়ে বেশি অর্থ ইনকাম করা যায়। যার ফলে সকল শ্রেণীর মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এ ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ৬.৫ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। আর আমাদের পাশের দেশ ভারতে ১৫০ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন।

ফ্রিল্যান্সিং পেশাতে সরকারি চাকরির থেকে বেশি অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কিন্তু যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন, তারা এখনো জানেন না ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এর সকল গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। 

আপনি যদি হুট-হাট করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন কোনো ধারণা ছাড়াই তাহলে কখনো সম্পূর্ণ ভাবে শিখতে পারবেন না। মাঝ পথে গিয়ে ঝড়ে পড়বেন।

তাই প্রথমে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ধারণা পেতে নিচে থেকে জেনে আসি Freelancing কি?

ফ্রিল্যান্সিং কি? (What is freelancing)

ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি কাজ বা পেশা যেখান আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের কাজ নিজের ঘরে বা যেকোনো জায়গায় বসে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 

এই কাজকে আপনি অনেকটা চাকরির মতো বলতে পারেন কিন্ত ভিন্নতা হলো আপনার ইচ্ছা স্বাধীন মতো কাজ করতে পারবেন।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

আপনার যখন ইচ্ছা কাজ করবেন। আবার যখন ইচ্ছা হবে না কাজ করবেন না। নেই কোনো ধরাবাঁধা অফিস টাইম। কেউ আপনাকে জের করবে না।

এখানে অফিসের মতো নিদিষ্ট কোনো ইমপ্লয়ার নেই। যখন যে বায়ানের কাজ করবেন তখন তিনি আপনার ইমপ্লয়ার।

আপনি নিজের ঘরে বসে বিভিন্ন দেশের বায়ানদের সাথে কাজ করতে পারবেন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং (freelancing) এ যেকোনো একটি কাজে দক্ষ হন তাহলে চাকরির চেয়ে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন 2022

আগের বলেছি ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্ত পেশা। তাই আপনি ঘরে বা বাহিরে যেকোনো জায়গায় বসে এই কাজ করতে পারবেন। 

তবে, ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনার কিছু জিনিসের অবশ্যই দরকার হবে। তাহলে চলুন নিচে থেকে আসি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি লাগবে?

(১) জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য অনেক গুলো ক্যাটাগরি রয়েছে। আপনি যে ক্যাটাগরির কাজ শিখবেন সেই কাজে আপনার দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। 

আপনি যেন ক্লায়েন্টের সাথে বলতে পারেন আমি এই বিষয় এক্সপার্ট। আপনি এমনটা বললে হবে না যে আমি এই বিষয় মোটামুটি পারি।

আমাদের দেশে বর্তমানে এমন অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন যারা একটু কাজ শিখে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলে কাজ তো পাচ্ছে না বরং দেশের সুনাম নষ্ট করছে।

আপনার যদি কাজের বিষয় জ্ঞান, দক্ষতা না থাকে তাহলে মার্কেটপ্লেসে শুধু ডলার দেখে যেতে হবে, ইনকাম করতে পারবেন না।

তাই আপনি আপনাকে বলবো ২-৩ টা কাজ না শিখে যেকোনো একটি কাজে এক্সপার্ট হন। তাহলে আপনি অবশ্যই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

(২) ধৈর্য হারাবেন না

ফ্রিল্যান্সিং কাজ বলে কথা নয়, যেকোনো কাজ শিখতে আপনার মধ্যে প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। প্রথমে আপনি যখন ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখতে শুরু করবেন তখন ১০ থেকে ১২ মাস ধৈর্য ধরে মনোযোগ দিয়ে কাজ শিখতে হবে। 

এই ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে টাকা ইনকাম করার চিন্তা মাথায় আসলে চলবে না। ধৈর্য ধরে নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

এরপর আপনি যখন মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলবেন তখন প্রথম কাজ পেতে আপনার ৫-৬ মাস লেগে যেতে পারে। আবার আপনি যদি কারো রেফারেন্সে কাজ নেন তাহলে অনেক দ্রুত কাজ পেয়ে যাবেন। 

এই দীর্ঘ সময় আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। একবার আপনার প্রোফাইলে যখন ভালো রিভিউ পড়ে যাবে তখন থেকে আপনার কাজের অভাব হবে না।

অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা আজ কাজ শুরু করে কাল ডলার আয় করার কথা চিন্তা করে। তাদের বলবো ধৈর্য ধরে কাজ করুন ভবিষ্যতে প্রচুর ডলার আয় করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। 

(৩) কম্পিউটার বা ল্যাপটপ

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনার প্রধান অস্ত্র হলো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং আপনার ব্রেন। এই দুইটা জিনিস ছাড়া আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

অনেকে বলে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা সম্ভব কিন্ত আসলে এটা সম্ভব না। আপনি হয়তো মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপে কাজ করে মাসে ১-২ টাকা টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

কিন্ত, মনে রাখবেন মোবাইল দিয়ে কখনো ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা যায় না। ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনার অবশ্যই একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দরকার।

তবে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে কখনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনবেন না। কারণ, আপনি যে কাজ করবেন সেই কাজের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার কিনবেন।

আপনি যদি আমার মতো ব্লগিং করেন তাহলে বেশি হাই কোয়ালিটির কম্পিউটার আপনার দরকার হবে না।

আবার আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর মতো কাজ গুলো করতে চান তাহলে হাই কোয়ালিটির কম্পিউটার দরকার হবে।

তাই, ফ্রিল্যান্সিং যে ক্যাটাগরির কাজ করবেন তার  উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কোনা ভালো হবে।

(৪) ইন্টারনেট কানেকশন

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কম্পিউটারের চাহিদা বেশি হলেও ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া কোনো কাজ করতে পারবেন না। 

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং কাজ অনলাইনের মাধ্যমে করতে হয় তার জন্য অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন দরকার। বর্তমান বাজারে ইন্টারনেটর মূল্য অনেক সস্তা।

এয়ারটেল সিমে প্রত্যেক মাসে ৩০০-৩৫০ টাকা দিয়ে ৩০-৩৫ জিবি ইন্টারনেট কিনে নিতে পারবেন। এছাড়া My airtel অ্যাপে কম মূল্যে আকর্ষনীয় মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজ পেয়ে যাবেন।

তাছাড়া, আপনার বাসায় যদি ওয়াইফাই কানেকশন থাকে তাহলে তো ফ্রিল্যান্সিং করতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

(৫) ইংরেজি ভাষা জানতে হবে

আমি আগেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং কাজ বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের সাথে করতে হবে। তাই আপনাকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলা জানতে হবে। 

ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়, ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। তাই সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় প্রচলন। 

বিভিন্ন দেশের বায়ানদের সাথে কাজ করতে হলে তাদের সাথে ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে হবে। আপনাকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার এক্সপার্ট হতে হবে।

বিদেশি বায়ানদের কাজ সম্পর্কে যেন আপনি তাদের সহজে বুঝিয়ে দিতে পারেন তেমন ইংরেজি জানতে হবে। তাই আপনাকে কাজ রিলেটেড ইংরেজি জানতে হবে।

মানে আপনাকে কাজ রিলেটেড ইংরেজি শব্দ জানতে হবে। তাছাড়া, কোনো ব্যাপারে যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করতে পারেন।

অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করে তাদের ক্লায়েন্টের কিছু ওয়ার্ড সম্পর্কে জেনে নেই।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার পাশাপাশি আপনার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আপনি যদি ইংরেজিতে দূর্বল হয়ে থাকেন তাহলে ইংরেজি শেখার কোর্স করতে পারেন। 

(৬) ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে 

এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা অন্যদের মুখে শুনছে freelancing করতে শুরু করে দিয়েছে। মনে করুন আমি নিজে একজন ব্লগার। 

এখন আমার কাছে কেউ যদি প্রশ্ন করে ভাই ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে কোন কাজটি সব থেকে সহজ? আমি তখন বলবো ব্লগিং সব থেকে সহজ কাজ। কারণ, আমার কাছে ব্লগিং সহজ মনে হয়।

কিন্ত, আপনার কাছে ব্লগিং সহজ মনে নাও হতে পারে। তাই আপনাকে বলবো আপনার যে কাজের উপর চাহিদা বা ইচ্ছা রয়েছে আপনি সেই কাজ শুরু করন। 

কারণ, ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য সুন্দর একটি মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে। যাতে আপনার কাজ করার ইচ্ছা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

Freelancing কাজ করার জন্য মার্কেটপ্লেসে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে। এর মধ্যে যে কাজ আপনার করতে ভালো লাগে সেই কাজ করুন এবং দক্ষতা অর্জন করুন।

কাজ শুরু করার মাঝ পথে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। এমনটা কখনো চিন্তা করবেন না যে আমার দ্বারা হবে না। কাজের বিষয় যদি আপনার প্রচুর ধৈর্য ও ইচ্ছা শক্তি থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

(৭) কৌশল অবলম্বন করুন

আপনি যদি একটু চালাক হন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ আপনার জন্য আরো সহজ হয়ে যাবে। অনেকে মনে করে কোর্স ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং শেখা সম্ভব না।

কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। আমি নিজে ব্লগিং শিখতে কখনো কোর্স করেনি। আমি গুগল এবং ইউটিউব থেকে সার্চ করে আজ এই পর্যন্ত এসেছি আলহামদুলিল্লাহ।

আপনিও চাইলে Google এবং YouTube থেকে শিখতে পারবেন যখন খুশি তখন। তাছাড়া এখান থেকে শেখার জন্য আপনাকে কোনো টাকা দিতে হবে না। সম্পূর্ণ ফ্রিতে শিখতে পারবেন। 

শেখার সময় কোনো বিষয় যদি বুঝতে না পারেন তাহলে কমেন্ট করতে পারবেন। এভাবে শেখা চালিয়ে যেতে হবে। থেমে গেলে হবে না।

আবার এমন অনেকে আছেন যারা গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করতে পারে না কিন্ত তারাও স্বপ্ন দেখে সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার।

আপনি যদি গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করে নিজের সমস্যা সমাধান করতে পারেন তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজে ৫০% সফল।

তাছাড়া, ফেসবুকে অনেক গ্রুপ রয়েছে যেখানে যুক্ত হয়ে নিজের সমস্যা গুলোর কথা শেয়ার করবেন। এভাবে সেখান থেকে ও শিখতে পারবেন।

অনেকে আছেন যারা টাকার গরমে সরাসরি কোর্স করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। 

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করার আগে আপনাকে জানতে হবে কোথা থেকে কোর্স করতে হবে। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তারপর কোর্স করবেন।

সব সময় নাম করা প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করার চিন্তা করবেন। তারা দেশের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মজীবি করে তুলছে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই এই সব কৌশল গুলো অবলম্বন করতে হবে।

শেষ কথা

আজকের আর্টিকেল আমরা জানলাম নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন। আশাকরি আমার লেখাটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে।
এই আর্টিকেল সম্পর্কে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে আপনার মনে তাহলে কমেন্টে অবশ্যই লিখে জানাবেন। ধন্যবাদ ❤️

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap