ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি 2022

যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং করতে চাই তাদের মনে প্রশ্ন জাগে ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি। কোন কাজটি শিখলে আমি বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবো।

আপনি যদি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন এবং আপনার মনে যদি এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

কারণ, আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাকে বলবো ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি। তাহলে চলুন নিচে থেকে বিস্তারিত জেনে আসি।

ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি 2022

ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বা ডিমান্ড সব থেকে বেশি সেটা জানার জন্য আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো এনালাইসিস করতে হবে।

সেখানে গিয়ে দেখতে হবে কোন জব এর চাহিদা বেশি। কোন জব গুলো সব থেকে বেশি পাবলিশ করা হচ্ছে। 

ওয়েব ডিজাইন এর চাহিদা বেশি নাকি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর। নাকি কনটেন্ট রাইটিং নাকি এসইও এর। 

এক্ষেত্রে আপনি যদি একটি মাত্র মার্কেটপ্লেস এনালাইসিস করেন তাহলে কিন্ত ভুল করবেন। অনলাইনে যতগুলো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে সব গুলো এনালাইসিস করতে হবে।

আর আপনি যদি সরাসরি আমরা কাজে জানতে চান freelancing কোন কাজের চাহিদা সব থেকে বেশি তাহলে আমি বলবো সকল ক্যাটাগরির চাহিদা রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার স্কিলের উপর। সকল কাজের চাহিদা রয়েছে কিন্ত আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

একটু লক্ষ করে দেখুন, আপনাদের বাজারে সবাই কিন্তু একই দোকান দেয়নি। কেউ দোকান দিয়েছে মুদির, কেউ কাপড়ের, কেউ জুতার, কেউ বইয়ের দোকান দিয়েছে।

এবার লক্ষ করে দেখুন সবাই কিন্ত ভালো ভাবে ব্যবসা করছে। কেউ সেখানে বসে নেই। 

আপনি যখন বাজারে যান তখন কি সব জিনিস একই দোকান থেকে কিনেন? নাকি এক এক জিনিস এক এক দোকান থেকে কিনেন?

নিশ্চয়ই আপনি এক এক দোকান থেকে এক এক জিনিস কিনেন। মুদির দোকান থেকে চাল, ডাল, তেল। জুতার দোকান থেকে জুতা। বইয়ের দোকান থেকে বই কিনবেন। ঠিক একই ক্ষেত্রে হয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে।

ধরুন, আপনি একজন ক্লায়েন্ট বা বায়ার এবং আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনার একজন ওয়েব ডেভেলপার দরকার। 

তিনি যেন সুন্দর করে আপনার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে পারে। ওয়েবসাইট তৈরি করার পরে এবার আপনার দরকার হবে সেখানে কনটেন্ট পাবলিশ করার।

তাহলে এবার আপনার একজন কনটেন্ট রাইটার দরকার। তিনি যেন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট রাইটিং করে দিতে পারে।

এরপর আপনার কনটেন্ট গুলো গুগল সার্চ ইঞ্জিনে টপ রেংকে নিয়ে আসার জন্য আপনার একজন এসইও এক্সপার্ট দরকার।

এভাবে আপনাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানুষের কাছে আপনাকে যেতে হবে। তাই শুধু একটা ক্যাটাগরি কাজের চাহিদা এমনটা কখনো ভাবা যাবে না।

তবে, এক এক ক্যাটাগরির কাজের মজুরি এক এক রকম হয়ে থাকে। একজন ওয়েব ডেভেলপারের মজুরি আর একজন কনটেন্ট রাইটারের মজুরি এক নয়।

আবার একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মজুরি আর একজন এসইও এক্সপার্ট এর মজুরি এক নয়। মজুরির বিষয়টা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার দক্ষতার উপর।

আপনার দক্ষতা যে কোনো ক্যাটাগরির কাজের উপর হতে পারে। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ শেখার আগে চিন্তা করে কোন ক্যাটাগরির কাজ শিখবো।

এক্ষেত্রে আপনাকে বিবেচনা করতে হবে কোন কাজটি করতে আপনার ভালো লাগে। আপনার যদি আঁকতে ভালো লাগে তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারেন।

আবার আপনার যদি কোডিং করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি ওয়েব ডেভেলপার হতে পারেন। আপনার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারেন।

মোট কথা যে কাজটি আপনি শিখবেন সেই কাজে যেন আপনি এক্সপার্ট হন। এরপরে ও যদি আমাকে প্রশ্ন করেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোন কাজটি শিখবো? তাহলে আমার পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি এটা এনালাইসিস করার জন্য আপনি মার্কেটপ্লেসে গিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরি গুলো ঘুরে দেখুন।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেটা জানার জন্য নিচে জনপ্রিয় কিছু ক্যাটাগরির কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। 

(১) ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপার (Web design and developer)

ওয়েব ডিজাইন হলো একটি ওয়েবসাইটের বাহিরের রূপ। ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন হবে, সাইট বার ডান পাশে নাকি বাম পাশে থাকবে।

মেনু হুলো কিভাবে সাজানো থাকবে, সাইট বারে কি কালার হবে, ফন্ট গুলো কোন স্টাইল হবে এই সব সুন্দর করে উপস্থাপন করে একজন ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপার।

আপনি যদি একজন দক্ষতা সম্পূর্ণ ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপার হতে পারেন তাহলে আপনাকে টাকা পিছনে দৌড়াতে হবে না। টাকা আপনার পিছনে দৌড় দিবে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে এমন অনেক ওয়েব ডেভেলপার রয়েছে যারা মাসে ৩-৪ লাখ টাকা ইনকাম করছে।

(২) গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphic design)

অনলাইনে বিদেশে কাজের চাহিদা গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় নাম্বারে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। এটা হলো এমন একটি কাজ যার মাধ্যমে কোন পৃষ্ঠার উপর ছবি বা নকশা আঁকাকে বুঝাই।

এই ছবি আঁকাকে একটি নিদিষ্ট অর্থে প্রকাশ কর হয়। আপনি যদি মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা এনালাইসিস করেন তাহলে দেখতে পাবেন এই ক্যাটাগরিতে প্রত্যেক ঘন্টার হাজার হাজার কাজ পাবলিশ করা হচ্ছে। 

তাছাড়া এই কাজের চাহিদা দিন দিন প্রচুর আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক graphic designer আছে যারা প্রত্যেক ঘন্টায় $৮৫ ডলার থেকে $১০০ ডলার পযর্ন্ত আয় করছে।

(৩) কনটেন্ট রাইটিং (Content writing)

কনটেন্ট রাইটিং হচ্ছে মূলত লেখালেখি করার কাজ। আপনার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি একজন কনটেন্ট রাইটার হতে পারেন।

আপনি ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট লেখার পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ার জন্য ও কনটেন্ট রাইটিং করতে পারবেন।

বর্তমানে অনলাইনে কনটেন্ট রাইটিং এর উপর প্রচুর কাজ পাবলিশ করা হচ্ছে। অনেক রাইটারা ওয়েবসাইটে কনটেন্ট রাইটিং করার পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজও করে থাকে।

একজন এক্সপার্ট কনটেন্ট রাইটারের প্রত্যেক ঘন্টার মজুরি ধরা হয় $৭০ থেকে $১০০ ডলারের বেশি। লিন্ডা ফর্মিকেলি নামের একজন এক্সপার্ট ফ্রিল্যান্সিং কনটেন্ট রাইটার প্রতি ঘন্টায় $২৫০ উপার্জন করেন।

(৪) এসইও (SEO)

একজন এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) এক্সপার্ট যে অনলাইন থেকে কত টাকা আয় করতে পারে এবং কত ভাবে আয় করতে পারে সেটা জেনে আপনি অভাগ হয়ে যাবেন।

বেশি ইনকামের কারণ হচ্ছে এখানে দীর্ঘদিন সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। তাছাড়া, এই কাজ অন্যান্য কাজের থেকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

আপনি যদি অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক এ একজন এসইও এক্সপার্ট এর প্রোফাইল দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন তারা প্রতি ঘন্টায় $১০০ ডলারের উপরে কাজ করে।

একজন এসইও এক্সপার্টের কাজ হলো যেকোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলোকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে টপ রেংকে নিয়ে আসা। যাতে ভিজিটররা সহজে কনটেন্ট পড়তে পারে।

(৫) ট্রান্সলেটর / অনুবাদ

ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা সম্পূর্ণ কাজের মধ্যে ট্রান্সলেটর ক্যাটাগরিতে দিনে হাজার হাজার কাজ পাবলিশ হচ্ছে। 

ট্রান্সলেটর এর কাজ হলো এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ডকুমেন্ট গুলো রূপান্তর করা। তবে, এই কাজ করার জন্য আপনাকে অন্য ভাষা জানতে হবে।

মনে করুন, একটি ইংরেজি ভাষায় ডকুমেন্ট ক্লায়েন্ট আপনাকে বললো নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে আরবি ভাষায় রূপান্তর করার জন্য।

এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই আরবি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। মানে যে ভাষায় আপনি ট্রান্সলেটর করবেন সেই ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা না থাকলে আপনি কাজ করতে পারবেন না।

এবার কথা বলা যাক ট্রান্সলেটর কাজের মজুরি কেমন হবে? আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক এ যদি একজন দক্ষ ট্রান্সলেটর এর প্রোফাইল দেখেন তাহলে তারা প্রতি ঘন্টায় $৪০ থেকে $৫০ ডলারের কাজ করে।

আপনি হয়তো উপরের লেখা গুলো পড়ে সহজে বুঝতে পারছেন ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি

শেষ কথা

আজকের আলোচনা থেকে আমরা জানলাম ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি বা অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবথেকে বেশি। 

আপনি যদি নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চান তাহলে যেকোনো একটি কাজ শিখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আপনি যে কাজটি শিখতে চাচ্ছেন সেটার বিষয় এক্সপার্ট হতে হবে।

আপনি যদি একজন এক্সপার্ট হয়ে মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে যান তাহলে আপনার কাজের অভাব হবে না। কেননা, অনলাইনে যে পরিমানে কাজ রয়েছে সেই তুলনায় দক্ষ ফ্রিল্যান্সার নেই।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap