ভিনেগার কি? এর উপকারীতা ও ব্যবহাররের নিয়ম

ভিনেগার কি এর সম্পর্কে যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্য। কারণ, আজকের আর্টিকেলে ভিনেগার (vinegar) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

তাহলে, চলুন নিচে থেকে জেনে আসি ভিনেগার কি বা ভিনেগার কাকে বলে, ভিনেগার এর উপকারিতা, ভিনেগার ব্যবহারের নিয়ম, ভিনেগার কি দিয়ে তৈরি হয়, ভিনেগার কি কাজে লাগে সহ আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে।

ভিনেগার কি? (What is vinegar in bangla)

ভিনেগার হলো একটি এসিটিক এসিডের ৬% থেকে ১০% পানির মিশ্রনে তৈরি হয়। চিনি গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই এসিটিক এসিডে রূপান্তরিত করা হয়।

ভিনেগার সাধারণত রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় আপলের রস, মদ, এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি তরল পদার্থের সহাযোগে।

উক্ত তরল পদার্থে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে। এছাড়া, নিদিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেও এটি প্রস্তুত হয়।

রান্নার কাজে ছাড়াও আচার, চাটনী, সালাদে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালী পরিস্কার, চিকিৎসা পথ্য, পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি বহু কাজে এটা ব্যবহৃত হয়।

বিশেষ করে ইতালির রান্নার ভিনেগার, লবন, তেল ইত্যাদি আবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভিনেগারের সংকেত কি?

ভিনেগার হলো একটি এসিটিক এসিড, যার সংকেত হলো CH3COOH. এটা ৬% থেকে ১০% পানির মিশ্রণে তৈরি করা হয়।

ভিনেগার কত প্রকার ও কি কি | ভিনেগারের প্রকারভেদ

আপনার রান্নাঘরের সবচেয়ে বিচিত্রময় একটি জিনিসের নাম ভিনেগার। এটা রান্নার কাজে ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি ঘর পরিস্কার করার জন্যও ব্যবহার করা হয়। 

বাজারে অনেক ধরনের ভিনেগার রয়েছে। আমি আমরা আগেই জেনেছি ভিনেগার ফলের রস দিয়ে তৈরি করা হয়।

তাই যে ফলের রস দিয়ে যে ভিনেগার তৈরি করা হয়, সেই ফলের নাম অনুসারে সেই ভিনেগারের নাম করণ করা হয়।

নিচে ১৫ টি ভিনেগারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি প্রচলিত ভিনেগার হলো –

1. Apple Cider vinegar

2. Whit wine vinegar

3. Distilled white vinegar

4. Balsamic vinegar

5. Malt vinegar

6. Red wine vinegar

7. Rice vinegar

এছাড়াও বাকি ৮টি ভিনেগার রয়েছে, যেগুলোর নাম সচারাচর শোনা যায় না। নিচে সেই ভিনেগারের নাম উল্লেখ করেছি।

8. Beer vinegar

9. Black (chinkiang) vineger

10. Sherry vinegar

11. Red rice vinegar

12. Apricot vinegar

13. Cane vinegar

14. Raisin vinegar

15. Champagne vinegar

ভিনেগার তৈরি করা হয় কিভাবে?

ভিনেগার তৈরি করা হয় মূলত পানিতে এসিটিক এসিডের পাতলা দ্রবণ দিয়ে। বিজ্ঞানীদের মতে ৪% থেকে ১০% পানি এবং ৬% থেকে ১০% acetic acid মিশানো হয়।

এসিটিক এসিডের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইথানলের জারণ দ্বারা উৎপাদন হয়। বেশির ভাগ দেশে বানিজ্যিক উৎপাদন দ্বিগুণ গাজন জড়িত। 

যেখানে ইথানল খামির দ্বারা চিনির গাজন দ্বারা উৎপাদিত হয়।

ভিনেগার খেলে কি হয়?

ভিনেগার খেলে শরীরে রক্তে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সচল করে। এছাড়া ভিনেগার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্লান্ত দুর করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল করে।

আপনি যদি নিয়মিত ভিনেগার খেলে শরীর চলমান থাকবে এবং শরীরের ক্লান্তি ভাব অনেকটা কমে যাবে।

ভিনেগার এর উপকারিতা

ভিনেগার ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি সমস্যা, হাইপারটেনশনের মতো রোগ গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। 

এছাড়া, গায়ের গন্ধ, পায়ের গন্ধ, রোদে পড়া দাগ, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিনেগার বিশেষ ভূমিকা রাখে।

চলুন নিচে থেকে জেনে আসি ভিনেগারের উপকারিতা গুলোর সম্পর্কে। 

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে। 
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • ত্বকের বার্ধক্য কমায়।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।
  • কিডনি সমস্যা। 
  • হৃদরোগ সমস্যা। 
  • অ্যালজাইমার রোগ নিরাময়। 
  • ক্যান্সার নিরাময়। 
  • হাইপার টেনশন কমাতে। 
  • মৌখিক চিকিৎসা। 
  • পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে।
  • দাঁদ সমস্যা কমাতে।
  • পা ফাঁকা সমস্যা সমাধান। 
  • জেলি ফিশের কাঁটা তুলতে। 
  • ব্রণের সমস্যা সমাধান। 
  • রোদে পড়া দাগ তুলতে। 
  • শরীরের দুর্গগ্ধ দুর করতে।
  • চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা। 
  • মেচেতার দাগ দূর করতে।

ভিনেগার এর ব্যবহার | ভিনেগার ব্যবহারের নিয়ম

ভিনেগার বা সিরকা শুধুমাত্র রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় সেটা কিন্ত নয়। স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় মানুষের কাছে এর চাহিদা রযেছে প্রচুর পরিমানে। 

তবে ত্বকের সুরক্ষা, চুলে লাগাতে এবং ওজন কমাতে সরাসরি সাদা ভিনেগার ব্যবহার করা যাবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে বেছে নিতে হবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার বা এসিভি।

সহনীয় মাত্রায় অম্লমিশ্রণ এবং শরীরের বিভিন্ন উপকারী উপকরণ থাকায় এসিভির ভিনেগারের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভিনেগারের বেশিই হলো পিকলিং ব্রাইনের একটি অপরিহার্য উপাদান, যেখানে এসিটিক এসিড প্রাকৃতির অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে।

রান্নার সময় যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে সেটা উদ্দীপনা করার জন্য ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। ভিনেগার প্রায় মেরিনাডে ব্যবহার করা হয়, কারণ এসিড তার ফাইভার ভেঙ্গে মাংসকে কোমল করতে সাহায্য করে।

তাছাড়া সাদা ভিনেগার ঐতিহ্যগতভাবে বাড়িতে ব্যবহার করা হয় রান্না ঘর, বাথরুম পরিস্কার করার জীবাণুনাশক হিসেবে।

ভিনেগারের দাম কত?

আপনি বাজারে বিভিন্ন ধরনের আপেল ভিনেগার পেয়ে যাবেন। যার দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে আরম্ভ করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কম দামি ভিনেগার এবং বেশি দামি ভিনেগারের মধ্যে তেমন বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন মিডিয়াম দামের মধ্যে আপেল ভিনেগার কেনার।

আর আপেল ব্রান্ডের ভিনেগার কেনার সময় অবশ্য নজর রাখবেন ভিনেগার যেন উৎপাদন তারিখ বেশি দিনের না হয়।

ভিনেগার কোথায় থেকে কিনবেন?

আপনি যেকোনো মুদিখানা বা সুপার মার্কেট থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিনেগার কিনতে পারবেন।

ভিনেগার দিয়ে কিভাবে রান্না করবেন?

সেই প্রাচীন কাল থেকে ভিনেগার রান্নার কাজে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও টেবিলের মশলা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসতেছে।

ভিনেগারে অম্লীয় প্রকৃতির খাবারে টার্টনেস যোগ করে স্বাদকে ভারসাম্য রাখে। বিশেষ করে চর্বি যুক্ত খাবারে ভিনেগার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটা খাবারকে ভারী বোধ করা থেকে বিরত রাখে।

কিভাবে ভিনেগার রাখবেন | ভিনেগার সংরক্ষণ রাখার উপায়

ভিনেগার ঘরের তাপমাত্রায় একটি বন্ধ পাত্রে দীর্ঘদিন রাখা যেতে পারে। যেহেতু, ভিনেগার খুব অম্লীয়, স্বাভাবিকভাবে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং নষ্ট হওয়ার প্রতিরোধী।

তবে, ভিনেগার সংরক্ষণ করার সব থেকে ভালো পদ্ধতি হলো বন্ধ পাত্রে করে ফ্রিজের মধ্যে রাখা।

ভিনেগার কি হারাম? 

যেহেতু ভিনেগার তৈরির সময় ১% থেকে ৫% এ্যালকোহোল মিশ্রণ করা থাকে এটা হালাল। ইসলাম অনলাইন ডটনেট বলেন, ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে মিশ্রণের পরিমান যদি নগণ্য হয়, তাহলে সেটা গ্রহণ করা যাবে।

কোনো খাবারে এ্যালকোহোলের পরিমান ৫% হলে সেটা নেশা লোভকারি বস্তুতে পরিণত হয় না। তাই এটা খাবারে মিশানো হলে হারাম বলে বিবেচিত হবে না।

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম ভিনেগার কি এবং এর উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে। ভিনেগার সম্পর্কে যদি আর কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট লিখে জানাবেন এবং ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap