মোবাইল আবিষ্কার করেন কে

0
44
মোবাইল আবিষ্কার করেন কে? Who involved mobile
মোবাইল আবিষ্কার করেন কে? Who involved mobile

বর্তমানে আমরা সবাই একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও আমাদের মধ্যে অনেকে জানে না মোবাইল আবিষ্কার করেন কে এবং মোবাইল এর ইতিহাস সম্পর্কে।

Who involved mobile এই সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারণ, বর্তমান সময়ে মোবাইল আমাদের সকলের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই আধুনিক সময় আমরা হাতে মোবাইল ফোন ছাড়া নিজেকে কল্পনা করাটা অনেক কঠিন। তাছাড়া এই পর্যন্ত যত গুলো আবিষ্কার করা হয়ে তার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো মোবাইল।

মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো জায়গার মানুষের সাথে কথা বলতে সম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটার মাধ্যমে সাধারণ জীবনযাপন থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, অফিস, ব্যবসা-বানিজ্য, যোগাযোগ উন্নতি করার ক্ষেত্রে অনেক কাজে আসে।

সব থেকে বড় সুবিধা মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে এখন আমরা আর ভয়েস কল (voice call) ব্যবহার করছি না।

এখনকার মোবাইল গুলোতে আমরা voice call এর সাথে সাথে video call, gps, map, online payment system, Photo edit, video edit, ইন্টারনেট ব্যবহার সহ আরো বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করি।

আমরা সকাল থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজ মোবাইল ব্যবহার করি। আমাদের সাথে সব সময় থাকা এই যন্ত্রটি সম্পর্কে অনেকে জানতে চেয়েছেন।

তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের বলবো মোবাইল আবিষ্কার করেন কে এবং মোবাইল এর ইতিহাস সম্পর্কে।

মোবাইল আবিষ্কার করেন কে? (Who involved mobile)

১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মার্টিন কুপার (martin cooper) মোবাইল আবিষ্কার করেন। ঔ সময় মার্টিন মটোরোলা (motorola) কোম্পানিতে গবেষণার কাজ করতেন।

মার্টিন মোবাইল আবিষ্কারের পরে প্রথম কল করেছিলেন তার প্রতিদ্বন্দী Dr.Jole S. Engel নামের এক ব্যাক্তিকে। martin তার এর দ্বারা তৈরি করা মোবাইলের প্রথম নাম দিয়েছিলেন Motorola DynaTAC.

বিশ্বের প্রথম মোবাইল তৈরি করা ফোনটি কিন্ত বর্তমান সময়ের মতো এতো ছোট ছিলো ন, সেটার আকার ছিলো প্রায় একটি ইটের মতো।

এবার হয়তো আপনারা জিগেশ করবেন, মোবাইলটা কত লম্বা এবং কত ওজন ছিলো? এই প্রশ্নের উত্তর আমি বলে দিচ্ছি। মটোরোলা এই মোবাইলটি লম্বা ছিলো ৯ ইঞ্চি এবং ওজন ছিলো ১.১ কেজি (kg).

মোবাইলে ঔ সময় যা ব্যবহার করা হতো –

  • এই ফোন কাজ করতো সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে।
  • মোবাইলটি ফুল চার্জ (full charge) করতে সময় লাগতো ১০ ঘন্টার মতো।
  • ফুল চার্জে মোবাইলটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কথা বলা সম্ভব ছিলো।

যেহেতু, Motorola DynaTAC ছিলো বিশ্বের প্রথম মোবাইল এ কারণে ফোনে কথা বলতে খরচ অনেক বেশি হতো।

এর পরে প্রচুর সময় ধরে ফোনের ত্রুটি গুলো নিয়ে কাজ করা হলো এবং কিভাবে ফোনের উৎপাদন খরচ কমানো যায় সেই বিষয় নিয়েও কাজ করা হলো।

এর পাশাপাশি সেল নেটওয়ার্ক কিভাবে আরো বেশি শক্তিশালি করা যায় সেটার বিষয় নিয়ে কাজ করা হলো। এর পরে ১৯৮৩ সালে মোবাইলটি বাজারে আনা হলো যাতে লোকরা কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

আর তখন মোবাইলটার নাম ছিলো, Motorola DynaTAC 8000X.

  • ১৯৮৩ সালে এই Motorola DynaTAC 8000X মোবাইলের দাম ছিলো $৩৯৯৫ ডলার, মানে বাংলাদেশ টাকায় ৩,৩৭,৫৭৭ টাকা।
  • এই মোবাইলে ৩০ জনের contact number সেভ করার অপশন ছিলো।
  • এতে ৩০ মিনিট কথা বলা যেত ফুল চার্জ দেওয়ার পরে।
  • মোবাইলের ব্যাটারি ৬ ঘন্টা করে ব্যাকআপ দিতো। 

স্মার্টফোন কে আবিষ্কার করেন?

এখান থেকে ২৫ বছর আগে IBM দ্বরা বড় touchscreen smartphone রিলিজ করা হয় যার নাম ছিলো simon, এবং বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোন IBM দ্বারা ডেভেলপ করা হয়েছিলো।

এই মোবাইলে বিশেষত্ব ছিলো এটা একটি touchscreen mobile. এখানে email এর সুবিধা ছিলো, বিভিন্ন ধরনের built in app দেওয়া হয়েছিলো যেমন sketch pad, calculator সহ আরো ইত্যাদি।

বাজারে কত ধরনের মোবাইল উপলব্ধ রয়েছে?

বর্তমান সময়ে বাজারে ৩ ধরনের মোবাইলের উপলব্ধ রয়েছে। এই মোবাইল গুলো হলো,

  1. Cell phone
  2. Feature phone
  3. Smartphone

তাহালে, চলুন নিচে থেকে এই প্রত্যেক মোবাইল ফোনের বিষয় কিছু তথ্য জেনে আসি।

Cell phone

একাবারে সর্বপ্রথম যে মোবাইল ফোন গুলো উপলব্ধ হয়েছিলো সেটা ছিলো এই সেল ফোন (sell phone)। এই মোবাইল গুলোতে advance কোনো features এবং function বলতে কিছু ছিলো না।

এই মোবাইল ফোন গুলো মানুষরা সহজে ব্যবহার করতে পারতেন। এবং এই ধরনের ফোন গুলো মূলত ব্যবহার করা হতো voice call ও sms পাঠানোর জন্য।

যেহেতু এই ফোনে তেমন কোনো আকর্ষনীয় ফীচার ছিলো না একারনে এটার দাম অনেক কম ছিলো।

বর্তমান সময়ে আধুনিক মোবাইল গুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই cell phone গুলোর চাহিদা অনেক কমে গেছে। তাই এই ফোন গুলো মানুষের হাতে কম দেখা যায়।

Feature phone

এই feature phone গুলো দেখতে প্রায় cell phone এর মতো হয়ে থাকে। তবে, এতে কিছু স্মার্টফোন এর ফীচার দেওয়া হয়েছে।

এই ফোনে সাধারণ call, sms এর বাহিরে গান শোনা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, ফটো তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া অপশন গুলো দেওয়া থাকে।

এই মোবাইলে কিছু উন্নত ফীচার গুলো থাকার কারণে feature phone গুলোর দাম কিছুটা বেশি। তবে, স্মার্টফোন এর তুলনায় দাম আবার অনেক কম।

Smartphone

আমরা প্রায় সবাই কম বেশি স্মার্টফোন সম্পর্কে জানি। একটি স্মার্টফোনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফীচারস এবং সুবিধা গুলো থাকে। এক কথায় বলতে গেলে smartphone কে মিনি কম্পিউটার বলা হয়।

এই স্মার্টফোন গুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি (technology) ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া এতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম OS এবং এটার মাধ্যমে smartphones গুলো কাজ করে থাকে।

এই অপারেটিং সিস্টেম গুলো হলো, ios, Android, windows ইত্যাদি। এই স্মার্টফোন গুলো টার্চস্কিন (touchscreen) হয়ে থাকে এবং আধুনিক সকল ফীচার গুলো রয়েছে। 

যেমন 3G/4G/5G connectivity, HD camera & display, internet, gps, wifi, fingerprint & face unlocked, large display, multimedia, apps, fash light সহ আরো ইত্যাদি।

এই সব উন্নত ফীচার গুলো থাকার কারণে বর্তমান সময়ে মানুষের কাছে স্মার্টফোন এর চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজকে আমরা কি জানলাম

আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা জানলাম মোবাইল আবিষ্কার করেন কে (Who involved mobile) এর সম্পর্কে। আশাকরি আমার লেখাটি আপনাদের কাছে ভালো লাগছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে