মোবাইল রুট করার নিয়ম – (রুট করার সফটওয়্যার)

বন্ধুরা আজকে আমরা জানবো মোবাইল রুট করার নিয়ম সম্পর্কে। বর্তমানে অনেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে কিন্ত Android mobile root করার নিয়ম কি বা কিভাবে মোবাইল রুট করবেন সেটা জানে না। (রুট করার সফটওয়্যার)

মনে রাখবেন, নিজের এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করাটা কিন্ত সবার জন্য জরুলি না। আপনি যদি নিজের মোবাইলে কিছু experiments করতে চান এবং performance বাড়িয়ে নিয়ে মোবাইলকে আরো শক্তিশালী করতে চান, তাহালে একবার রুট করে দেখতে পারেন।

অনেক টেকনিক্যাল ভাবে জ্ঞান রাখা মানুষরা mobile root করেন। তবে, আপনি যদি সাধারন একজন লোক হয়ে থাকেন এবং টেকনিক্যাল ভাবে আপনার যদি তেমন কোনো জ্ঞান না থাকে তাহালে মোবাইল রুট করে তেমন কোনো লাভ হবে না।

তবে, এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার পরে আপনি এমন কিছু মজার অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন যেগুলো আগে ব্যবহার করতে পারতেন না। এই অ্যাপস গুলো হলো-

  • Font style পরিবর্তন অ্যাপ।
  • security apps.
  • ram বাড়ানোর এপস।
  • performance booster apps ইত্যাদি।

এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার পরে আপনি বিভিন্ন কোম্পনির মোবাইলের stock room ইনস্টাল করে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পনির স্মার্টফোন এর মজা নিতে পারবেন। এছাড়া আরো অনেক রকমের লাভ রয়েছে যেটা আপনি রুট করার পরে বুঝতে পারবেন।

তাহালে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি রুট কি? বা রুট কাকে বলে এবং মোবাইল রুট করার নিয়ম এর ব্যাপারে। 

রুট কি? (What is root)

বর্তমানে রুট শব্দটি আমাদের কাছে এতোটাই পরিচিত হয়ে গেছে যে এটাকে আমরা রুট ইউজার বলার পরিবর্তে সরাসরি রুট বলি। সহজ ভাবে বলা যায়, রুট হলো একটি এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর বা প্রশাসক।

এটার বাংলা অর্থ হলো গাছের শিকড়। আসলে রুট বলতে সেই পারমিশনকে বুঝায় যেটার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করে তোলা হয়। (Best apps to root android smartphone)

রুট হলো একটি এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পারমিশন বা অনুমিত। এই অনুমিত যদি আপনার ডিভাইসে থাকে তাহালে আপনি যেটা ইচ্ছা করতে পারবেন। যারা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী তারা এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর প্রিভিলেজ ছাড়া কখনো সিস্টেম ফাইল গুলো নিয়ে কাজ করতে পারবেন না।

ঠিক এমনি ভাবে লিনাক্সেও রুট অনুমিত ইউজার ছাড়া সিস্টেম এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর কাজ গুলো করা যায় না। লিনাক্সে চালিত সার্ভারে আপনি যা ইচ্ছা করতে পারবেন। এক কথায় যার সব কিছু করার অনুমতি রয়েছে তাকে রুট ইউজার বা রুট বলা হয়।।

আশাকরি, অনেক সহজে বুঝতে পারছেন রুট কি? (What is root) বা রুট কাকে বলে এবার চলুন নিচে থেকে জেনে আসি মোবাইল রুট করার নিয়ম

মোবাইল রুট করার নিয়ম কম্পিউটার ছাড়া

আগের সময়ে যখন কেউ রুট করার কথা ভাবতো তখন কম্পিউটার প্রয়োজন হতো। কিন্ত বর্তমানে আপনি রুট করার জন্য এমন অনেক ধরনের rooting apps পেয়ে যাবেন যার মাধ্যমে ৫ মিনিটের মধ্যে নিজের এন্ড্রয়েড ডিভাইস রুট করে নিতে পারবেন।

এই মাধ্যম গুলো হলো এন্ড্রয়েড মোবাইল সহজে রুট করার সেরা উপায়। mobile root করার এই অ্যাপস গুলো আপনারা google play store থেকে বা গুগল সার্চ করে সহজে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আমি আজকে আপনাদের এমন ৩ টি মোবাইল রুট করার অ্যাপের বিষয়ে বলবো যার মাধ্যমে সহজে Android mobile root করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে এপস গুলো মোবাইলে ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন এবং প্রয়োজনীয় স্টোপস গুলো ফলো (follow) করুন।

Top 3 apps root your android mobile -2021

মোবাইল রুট করার আগে আপনাদের কিছু বিষয়ে আগে থেকে নজর দিতে হবে। এই বিশেষ নিয়ম গুলো আমি আপনাদের বলবো। তাহালে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি android রুট করার অ্যাপস গুলোর ব্যাপারে।

১. king root

king root android application যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার সব চেয়ে সেরা এবং ভালো অ্যাপ্লিকেশন হিসাবে প্রমাণীত হয়েছে। কিংক রুট অ্যাপ মোবাইলের রুটিং প্রসেস অনেক সহজে সুরক্ষিত ভাবে সম্পর্ন করে।

মোবাইল রুট করার যত গুলো এপস রয়েছে তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এই অ্যাপটি। এই অ্যাপ্লিকেশন google play store থেকে সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন। এবং এটার মাধ্যমে কম্পিউটার ছাড়া নিজের মোবাইল কে রুট করে নিতে পারবেন।

২. SuperSU – one click root

SuperSU মোবাইল রুটিং অ্যাপ এর ব্যাপারে আপনারা গুগলে সার্চ করলে সহজে ডাউনলোড লিংক পেয়ে যাবেন। আমি এই অ্যাপের মাধ্যমে আমার নিজের স্যামসাং মোবাইল রুট করে ছিলাম।

কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া একটি মাত্র ক্লিকে আমার এন্ড্রয়েড মোবাইল সফল ভাবে রুট হয়ে গিয়েছিলো। তাই আপনি যদি রুট করার কথা ভাবেন, কিভাবে মোবাইল রুট করবো তাহালে এই SuperSU app ব্যবহার করে দেখুন।

৩. FamaRoot

Fama root app এর মাধ্যমে আপনি মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ফোন রুট করে নিতে পারবেন। এই অ্যাপটি আপনি google play stare  থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন না। paly stare এ এই অ্যাপ নেই।

তবে, গুগলে সার্চ করে আপনি অনেক রকমের ওয়েবসাইট থেকে FamaRoot app download করতে পারবেন। smartphone root করার জন্য এই অ্যাপটি আপনার কাজে আসবে কিনা সেটা একে ব্যবহার করলে জানতে পারবেন।

রুট করার আগে কি করতে হয়?

  • মোবাইল রুট করার আগে ফোনের চার্জ মিনিমাম ৭০% থাকতে হবে। এতে আপনার rooting process এ কোনো রকম সমস্য হবে না।
  • রুট করার আগে মোবাইলের সব প্রয়োজনীয় ফাইল, গান, ছবি ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন।
  • উপরের দেওয়া অ্যাপস গুলোর মধ্যে আপনি যেটা দিয়ে মোবাইল রুট করবেন সেটা অবশ্যই ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে ইনস্টল করতে হবে।
  • রুট করা অ্যাপটি ওপেন করে তাতে দেওয়া স্টোপ গুলো ফলো (follow) করে নিজের smartphone রুট করুন।

মোবাইল রুট করে লাভ কি হবে?

আপনি যদি মোবাইল রুট করার কথা ভাবেন, তাহালে মোবাইল রুট করে লাভ কি হবে সেটা জানা অবশ্যই জরুলি। তাছড়া ফোন রুট করার মজা আলদা।

  • আপনার রুট করা মোবাইলের UI (user interface) পরিবর্তন করতে পারবেন।
  • আপনি যখন নতুন মোবাইল কিনেন তখন ফোনে কিছু অ্যাপস আগে থেকে ইনস্টল করা থাকে, যেগুলো আপনি uninstall করতে পারবেন না। এর ফলে অনেক সময় আপনার মোবাইল স্লো হয়ে যায়। তবে, আপনি যখন ফোন রুট করবেন তখন সেই এপস গুলো uninstall করতে পারবেন।
  • processor over clock এবং under clock করে সহজে মোবাইলের processor ও performance বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
  • বিভিন্ন কোম্পনির স্মার্টফোন গুলোর stock rom বা custom rom গুলো মোবাইলে ইনস্টল করতে পারবেন।
  • আপনি এমন অনেক অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন, যেগুলো রুট করার আগে আপনি ব্যবহার করতে পারতেন না।
  • আশাকরি, মোবাইল রুট করার লাভ গুলোর ব্যাপারে সহজে বুঝতে পারবেন। তাহালে চলুন এবার নিচে থেকে জেনে আসি ফোন রুট করার ফলে কি ক্ষতি হতে পারে।

মোবাইল রুট করার ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে?

Mobile Root করার ফলে, তেমন কোনো বিশেষ ক্ষতি আপনার মোবাইলে হওয়ার সুযোগ অনেক কম থাকে। কিন্ত, আবার দেখা গেছে অনেকের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে মোবাইলে।

  • মোবাইল রুট করার ফলে আপনার মোবাইলের warranty শেষ হয়ে যাবে।
  • Root করার ফলে OS থেকে অটোমেটিক আপডেট নাও আসতে পারে।
  • ফোন রুট করার সময় অবশ্যই ভালো করে স্টোপস গুলো পড়ে বুঝে ফলো করুন। না হলে ফোনটি চিরকালের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • root করার ফলে আপনার মোবাইলে নানা ধরনের ক্ষতিকারক ভাইরাস আক্রমন করতে পারে। যার ফলে মোবাইলের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।
  • আমার নিজের ফোনটি রুট করার ফলে অনেক স্লো হয়ে গেছিলো। তাই আপনার ফোনও স্লো হয়ে যেতে পারে।

নোটঃ আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের যে রুট করার সফটওয়্যার গুলোর ব্যাপারে বললাম, সেগুলো ব্যবহার করে আপনি অনেক সহজে নিজের মোবাইল রুট করে নিতে পারবেন। কিন্ত যদি রুট করার পরে আপনার মোবাইলের কোনো রকম ক্ষতি হয় তাহালে আমি এবং আমার এই sofolfreelancer.net ব্লগ দ্বায়ী না।

আজকে আমরা কি শিখলাম

তাহালে বন্ধুরা আজকে আমরা জানলাম রুট কি? বা রুট কাকে বলে এবং মোবাইল রুট করার নিয়ম গুলোর ব্যাপারে। আপনি যদি মোবাইল রুট করার নিয়ম খুঁজছেন তাহালে উপরের অ্যাপস গুলোর মাধ্যমে কম্পিউটার ছাড়া মাত্র একটি ক্লিকে মোবাইল রুট করতে পারবেন।

শেষে আমি আপনাকে একটা পরামর্শ দিবো, আপনি যদি দামি মোবাইল ব্যবহার করেন তাহালে রুট করবেন না। কারণ, রুট করার ফলে আপনার security system অনেক বাজে হয়ে যেতে পারে। যার ফলে মোবাইলে সহজে ক্ষতিকারক ভাইরাস আক্রমন করতে পারবে।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap