কিভাবে মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করবেন 2022

আজকের আর্টিকেলে আমি বলবো মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম সম্পর্কে। অনেক সময় আপনার মোবাইল স্লো (slow) বা হ্যাং (hang) হয়ে যায়।

মোবাইল স্লো (slow) বা হ্যাং (hang) হওয়ার প্রধান কারণ হলো মোবাইল আপডেট না করা। মোবাইলের সফটওয়্যার গুলো আপডেট করার মাধ্যমে মোবাইল ফাস্ট করে নিতে পারবেন। 

Mobile software update করার মাধ্যমে মোবাইল শুধু ফাস্ট হবে সেটা কিন্তু নয়। এর সাথে মোবাইলে নতুন নতুন অনেক গুলো ফিচারস দেখতে পাবেন।

আমি বর্তমানে Oppo A3s মোবাইল ব্যবহার করি। কিন্তু, আমার মোবাইলে আসা সফটওয়্যার আপডেট না দেওয়া কারণে মোবাইল অনেক স্লো কাজ করছে। 

এমনকি মাঝে মাঝে মোবাইল হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। এর কিছু পরে আমি লক্ষ্য করলাম আমার মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেট এসেছে।

আমার মোবাইলে আসা সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার পরে মোবাইল আগের মতো ফাস্ট কাজ করা শুরু করে এবং তারপর থেকে আর হ্যাং হয়নি।

আপনি যদি ফোন আপডেট করার নিয়ম না জানেন তাহলে চিন্তা করবেন না। কারণ, আজকের আর্টিকেলে আমি বিস্তারিত বলে দিবো।

এর আগের আর্টিকেলে বলেছি মোবাইল সফটওয়্যার ডাউনলোড করার নিয়ম এবং সেরা ৫ টি ওয়েবসাইট সম্পর্কে।

তাহলে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি সফটওয়্যার আপডেট কি, কিভাবে আপডেট করতে হয়, আপডেট দিলে কি হয় সহ আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে।

সফটওয়্যার আপডেট কি? (What is software update)

যখন ডেভেলপার একটি সফটওয়্যার তৈরি করে তখন অনেক বার বিভিন্ন ভাবে সেই সফটওয়ারটি  টেস্ট করা হয়।

মোবাইলের জন্য সফটওয়্যারটি উপযুক্ত কি না সেটা নানা ভাবে টেস্ট করার পরে অনেক সময় সফটওয়্যারের মধ্যে error পাওয়া যায়।

এই error থাকা সফটওয়্যারটি যখন মোবাইলে রান (run) করা হয় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় তখন মোবাইল নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়।

সফটওয়্যারের এই error গুলো সমাধান করার জন্য ডেভেলপাররা তাদের সার্ভারে নতুন সফটওয়্যার আপলোড করে দেয়।

যার ফলে প্রত্যেক মোবাইল ব্যবহারকারীর কাছে নতুন সফটওয়্যার আপডেট এর নোটিফিকেশন চলে যায়। এরপর ব্যবহারকারী যখন সফটওয়্যারটি আপডেট করে নেয় তখন সেই সমস্যা গুলো সমাধান হয়ে যায়।

এভাবে ডেভেলপাররা সফটওয়্যারের error গুলো ফিক্স (fix) করে এবং ব্যবহারকারীকে সেই সফটওয়্যারকে মোবাইলে আপডেট করে নিতে হয়।

আশাকরি, সফটওয়্যার আপডেট বা সিস্টেম আপডেট কি সহজে বুঝতে পারছেন।

সফটওয়্যার আপডেট কত প্রকার

সাধারণত দুই ধরনের সফটওয়্যার আপডেট আমরা মোবাইলে পেয়ে থাকি। তাই বলা যায় সফটওয়্যার আপডেট ২ প্রকার। যথা –

  1. Version updates
  2. Security and incremental updates

চলুন এই দুই প্রকার সফটওয়্যার আপডেট সম্পর্কে নিচে থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে আসি। 

Version updates

যখন এই আপডেট গুলো করা হয় তখন অপারেটিং সিস্টেম এর মধ্যে পরিবর্তন আনা হয়। সাধারণত বছরে ১ বার এই আপডেট গুলো করা হয়।

এই আপডেট গুলো হলো settings, new apps, features, UI changes, Security ইত্যাদি। মনে রাখবেন, সিস্টেম আপডেট সব সময় বড় সাইজ হয়। যেমন – 500 MB থেকে শুরু করে 1.7 GB এর বেশি।

এই আপডেট গুলোর ফলে আমরা এন্ড্রয়েড ভার্ষন  ১.০ থেকে ১২ পর্যন্ত পেয়েছি এবং আইওএস (IOS) ১ থেকে ১৫.৬ পর্যন্ত পেয়েছি।

Security and incremental updates

এই আপডেট গুলোকে security patches বলা হয়। সাধারণত এই সিকিউরিটি আপডেট গুলো তুলনামূলক ভাবে অনেক ছোট হয়।

এই আপডেট গুলোর ফলে আপনার অপারেটিং সিস্টেম এর মধ্যে থাকা error গুলো সমাধান করার কাজ করে।

এভাবে error গুলো ফিক্স (fix) করে মোবাইল কে বিভিন্ন malicious attacks থেকে সিকিউরিটি প্রদান করে। এই আপডেট গুলো আপনি কত দিন পর পর পাবেন সেটা নির্ভর করে স্মার্টফোন মেকারের উপরে।

সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস পর পর এই আপডেট গুলো পাওয়া যায়। এর ফলে minor new features এবং security আপডেট এক সাথে পাওয়া যায়।

মোবাইল আপডেট করার আগে যে বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখবেন

এন্ড্রয়েড মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম আপনাকে সঠিক ভাবে জানতে হবে৷ যদিও আপডেট করার নিয়ম ততোটা কঠিন না। কিন্তু কিছু বিষয় অবশ্য লক্ষ্য রাখতে হবে।

১. প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ব্যাকআপ নিন

সফটওয়্যার আপডেট করার আগে আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ব্যাকআপ নিন। যদিও বর্তমান আপডেটে ডাটা ডিলিট হয় না কিন্তু ব্যাকআপ নেওয়া ভালো।

তাই, মোবাইলে থাকা ছবি, ভিডিও, অডিও সহ সকল প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো গুগল একাউন্ট খুলে গুগল ড্রাইভে রাখতে পারেন।

২. মোবাইলের চার্জ চেক করুন

ভর্ষন আপডেট এর ফলে অপারেটিং সিস্টেম বা সফটওয়্যার আপডেট হতে অনেক লম্বা সময় নেয়। আগেই বলেছি ভার্ষন আপডেট এর ফাইল গুলো অনেক বড় হয়।

কখনো কখনো এটা ১ ঘন্টা থেকে ১.৫ ঘন্টা পর্যন্ত সময় নেয়। তাছাড়া আপডেট শেষ হওয়ার পরে মোবাইল নিজে বন্ধ হয়ে আবার অন (on) হয়।

তাই বলবো মোবাইলে কতটুকু চার্জ আছে সেটা চেক করে নিবেন। যাতে আপডেট করার সময় যেন মোবাইল বন্ধ না হয়ে যায়। আপডেটের সময় মোবাইল বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

৩. ইন্টারনেট সংযোগ চেক

মোবাইল আপডেট করার জন্য অবশ্যই আপনার ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে। তাছাড়া আপডেট ফাইল গুলো আকারে অনেক বড় হয়।

যার ফলে আপডেট করার জন্য ১ জিবি থেকে ২ জিবি পর্যন্ত ইন্টারনেট ডাটা লাগতে পারে। আপডেটের সময় ফাস্ট ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করবেন।

যদি পারেন wifi কানেকশন নিয়ে আপডেট দিবেন। আপনার ইন্টারনেট যত বেশি ফাস্ট হবে ততো দ্রুত আপডেট হবে।

৪. পাওয়ার বাটন বন্ধ করবেন না

সফটওয়্যার আপডেট হতে অনেক সময় ১ ঘন্টা থেকে ১.৫ ঘন্টা পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে। এই সম্পূর্ণ সময় আপনি ধৈর্য ধরে বসে থাকবেন।

মনে রাখবেন, আপডেটের সময় মোবাইলের পাওয়ার বাটন বন্ধ করবেন করবেন না।

মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম

আজকে আমি এন্ড্রয়েড ফোন সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম এবং আইফোনে সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম দুইটা বলে দিবো।

এন্ড্রয়েড কিভাবে সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয়?

এন্ড্রয়েড মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া জন্য প্রথমে আপনাকে সেটিং (Setting) অপশনে যেতে হবে। এরপর About Phone এই অপশনে ক্লিক করুন। 

এরপর Software Update এই অপশনে ক্লিক করে আপডেট দিচ্ছে কি না সেটা যাচাই করার জন্য Check for Update অপশনে ক্লিক করুন।

আপনার মোবাইলে যদি Software Update অ্যাভেলেবল থাকে তাহলে  Download & Install অপশনে ক্লিক করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন।

এবার আপনার ডাউনলোড শুরু এবং ১০০% হয়ে গেলে মোবাইল নিজে নিজে রিস্টার্ট (restart) নিয়ে আবার অন (On) হবে।

এখানে আপনাকে আর কোনো কিছু করতে হবে না। মোবাইল অন (On) হওয়ার পরে আপনি নতুন ভার্ষন উপভোগ করতে পারবেন।

আইফোন কিভাবে সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয়?

আইফোনে সফটওয়্যার আপডেট করার জন্য আইফোন এর সেটিং (Setting) অপশনে যান। এবার Setting অপশনে থেকে General অপশনে ক্লিক করুন।

General অপশনে আপনি Software Update অপশনটি দেখতে পাবেন। যদি আপনার আপডেট অ্যাভেলেবল থাকে তাহলে Download & Install অপশনে ক্লিক করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিন।

ডাউনলোড শেষ হয়ে গেলে অটোমেটিক ভাবে ফোন রিস্টার্ট (restart) নিবে। তারপর আপনি ফেনে যুক্ত হওয়ার নতুন ফিচারস উপভোগ করতে পারবেন।

মোবাইল ফোন আপডেট করলে কি হয়?

আমরা উপর থেকে এন্ড্রয়েড এবং আইফোন ফোন আপডেট করার নিয়ম জেনেছি। এবার অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে ফোন আপডেট করলে কি সুবিধা পাবো?

নিচে আমি ফোন আপডেট করার কিছু সুবিধা উল্লেখ করেছি। না জানা থাকলে জেনে নিবেন।

১. Error সমস্যা সমাধান

আপনি মোবাইলে পুরাতন ভার্ষন ব্যবহার করলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। আর আপনি যখন আপডেট ভার্ষন ব্যবহার করবেন তখন এই সমস্যা গুলো ফিক্স হয়ে যাবে।

২. অ্যাপ্লিকেশন এর স্পিড বৃদ্ধি পাবে

মোবাইলে ব্যবহার করা অ্যাপ্লিকেশন গুলো পুরাতন সফটওয়্যারে চলতে সমস্যা হয়। যার ফলে অনেক সময় ফোন হ্যাং হয়ে যায়।

আর যখন আপনি ফোন আপডেট করবেন তখন ফোনের অ্যাপ্লিকেশন গুলোর স্পিড অনেক গুনে বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে ফোন অনেক ফাস্ট হবে।

৩. নতুন ফিচারস যুক্ত

ডেভেলপার রা সিস্টেম আপডেট করে সমস্যা গুলো ফিক্স করার পাশাপাশি ফোনে অনেক নতুন নতুন ফিচারস যুক্ত করে। যার ফলে আপনি ফোনে নতুন ফিচারস উপভোগ করতে পারেন।

৪. সফটওয়্যার সিকিউরিটি বৃদ্ধি পায়

ফোনে নতুন ভার্ষন আপডেট করার ফলে সফটওয়্যার সিকিউরিটি বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ফোনে ভাইরাস এবং হ্যাকিং এর হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়।

৫. ফোন ফাস্ট হয়

মোবাইল ফোনে নতুন সফটওয়্যার আপডেট করার আগে যতোটা মোবাইল ফাস্ট কাজ করতো তার থেকে দ্বিগুণ ফাস্ট কাজ করে সফটওয়্যার  আপডেট এর পরে।

প্রশ্ন : মোবাইল আপডেট করলে কি সকল ডাটা বা তথ্য ডিলিট হয়ে যাবে। 

উত্তর – না। মোবাইল আপডেট করলে মোবাইলের কোনো ডাটা বা তথ্য ডিলিট হবে না। আপনারা নিরভয়ে সফটওয়্যার আপডেট করুন।

শেষ কথা 

আজকে আমরা জানলাম আইফোন এবং এন্ড্রয়েড মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করার নিয়ম সম্পর্কে। এরপরেও Software Update সম্পর্কে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন।

2 thoughts on “কিভাবে মোবাইল সফটওয়্যার আপডেট করবেন 2022”

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap