রেডিও কে আবিষ্কার করেন? রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস

0
55
রেডিও কে আবিষ্কার করেন? রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস
রেডিও কে আবিষ্কার করেন? রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস

রেডিও কে আবিষ্কার করেন? রেডিও আবিষ্কার হয় কত সালে? এবং রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানবো আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে। (radio tehran bangla)

আগের সময় মানুষরা টিভি এবং মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করতেন। আর তখন মানুষের সময় কাটানোর একমাত্র উপকরণ ছিলো radio. এর মাধ্যমে বিভিন্ন এপ এম চ্যানেলের গান, নিউজ ইত্যাদি শুনতেন।

কিন্ত, বর্তমান সময় আমাদের প্রত্যেকের কাছে স্মার্টফোন এবং বাড়িতে tv রয়েছে। এজন্য এখন আমরা আর সময় কাটানোর জন্য রেডিও ব্যবহার করি না।

তবে, বর্তমানে এমন অনেক আধুনিক মানুষ রয়েছে যারা এখনো রেডিও শুনে থাকেন। আমার কাকা আধুনিক মানুষ হলেও তিনি এখনো রেডিওতে গান, নিউজ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনে থাকেন।

বর্তমানে যেভাবে smartphone, tv, computer, laptop গুলো মানুষের মনোরঞ্জন এবং নিউজ এর দারুন একটি উৎস, ঠিক তেমনি রেডিও আগেকার সময়ের মানুষের মনোরঞ্জন এবং নিউজ এর দারুন একটু উৎস ছিলো।

আমরা যতই আধুনিক ডিভাইস গুলো ব্যবহার করি না কেন রেডিওতে গান শোনা সত্যিই অনেক মজার ব্যাপার ছিলো। যাদের বাড়িতে এখনো রেডিও আছে তারা বিষয় হয়তো জানেন।

তাছাড়া, বর্তমান সময়ের শিশুরা তো জানেন না বা চিনেন না রেডিও কি? এখান থেকে কিছু দিন আগে আমার মামাতো বোন আমাদের বাড়িতে বেডাতে আসেন। তার বয়স ৫ বছরের মতো।

সে যখন আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসে তখন আমার কাকা বসে রেডিওতে সংবাদ শুনছিলেন। তখন আমার সেই ছোট মামাতো বোন রেডিও এর পাশে গিয়ে রেডিওতে কান লাগিয়ে শুনতে থাকে এবং বলে কে কথা বলে এর মধ্যে থেকে।

তখন তার কাছে প্রশ্ন করা হয় আপু তুমি এর নাম কি জানো? সে প্রশ্নের জবাবে বললো “না”। এখনও এমন অনেকে আছে যারা রেডিও চিনে না বা কোনো দিন দেখে নি।

আধুনিক টিভি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য রেডিও এর ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তাহালে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি রেডিও কে আবিষ্কার করেন এবং রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস এর সম্পর্কে। তার আগে জানবো radio কি?

রেডিও কি? (what is radio in bangla)

যখন আমরা রেডিও এর কথা চিন্তা করি তখন আমাদের মাথায় FM এর চিন্তা চলে আসে। যদিও দুইটা একই যন্ত্র। রেডিও একটি প্রযুক্তিগত উপাদান যার মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা গুলো তার ছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়।

বর্তমানে এমন অনেক যোগাযোগের মাধ্যমে রয়েছে যারা রেডিও টেকনোলজি ব্যবহার করে। এটা এমন একটি পদ্ধতি যেখানে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগনাল পাঠানো হয়। যাতে তরঙ্গের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

আগের সময়ে যদি রেডিও আবিষ্কার না হতো তাহালে হয়তো আধুনিক সময়ে এতো ভালো যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারতাম না। তাই রেডিও প্রযুক্তিতে অনেকটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে।

একটি মাত্র radio station থেকে radio waves গুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। radio waves হলো এক প্রকার ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক তরঙ্গ। যেগুলো ফ্রিকোয়েন্সি 30Hz থেকে 300 GHz হয়ে থাকে।

রেডিও কে আবিষ্কার করেন?

আপনি যদি google গিয়ে সার্চ করেন রেডিও আবিষ্কার করেন কে তাহালে Guglielmo Marconi, Reginald Fessenden এবং William Dubilier এই তিন জনের নাম দেখতে পাবেন।

তবে, রেডিও আবিষ্কারের প্রধান ক্রেডিট দেওয়া হয় Guglielmo Marconi কে। এছাড়া আরো অনেক বুদ্ধিজীবীদের অবদান রয়েছে। এজন্য যখন প্রশ্ন করা হবে কে রেডিও আবিষ্কার করেন, তাহালে এক জন ব্যাক্তির নাম বললে হবে না।

উপরে আমি যে তিন জন ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করেছি তাদের মূখ্য ভূমিকা ছিলো রেডিও আবিষ্কারে। তবে, Guglielmo Marconi হলো সেই ব্যাক্তি যাকে রেডিও প্রযুক্তি আবিষ্কার করার প্রধান হিসাবে ধরা হয়।

১৮৮০ দশকে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ খোঁজ করার পরে Guglielmo Marconi প্রথম ব্যাক্তি ছিলেন যার দ্বারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ করার একটি যন্ত্র আবিষ্কার করতে সফল হয়।

এজন্য তাকে রেডিও আবিষ্কারক বলা হয়। এর পরে ১৯৯০ দশকে ২৩ শে ডিসেম্বর reginald a Fessennden নামের এক ব্যাক্তি ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে ১.৬ কিলোমিটার দূরে একটি অডিও পাঠায়।

১৯০৬ সালে christmas eve এর দ্বারা প্রথম পাবলিক রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়। এভাবে সময়ের সাথে সাথে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে এই ওয়্যানলেস ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক সিস্টেমকে radio নাম দেওয়া হয়।

এবার হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন রেডিও আবিষ্কার এর সাথে কারা কারা জড়িত আছে।

রেডিও আবিষ্কার কখন ও কত সালে হয়?

Heinrich Rudolf Hertz দ্বারা ১৮৮০ দশকে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ আবিষ্কার করা হয়। এই আবিষ্কারের বিষয় একটি বই পাবলিশ করা হয় সেখানে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গের বিষয় বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে। 

এই বইটি জগদীশ বসু নামের একজন বিশেষগ্যের   দ্বারা পড়া হয় এবং তার উপর এতোটা প্রভাব পড়ে যে তিনি ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ নামে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

এর পর “বৈঙ্গনীক” প্রদর্শন করার সময় তিনি দূরে রাখা একটি ঘন্টার সাহায্যে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গের সাহায্যে বানিয়ে দেখিয়ে দিলেন। আর ঔ সময় এই বিষয়টা অবিশ্বাস্য একটি বিষয় ছিলো।

এর পরে ১৮৯০ দশকে মার্কোনিক দ্বারা রেডিও আবিষ্কার করা হয়। মার্কিন পেটেন্ট এর রেকর্ড মতো গুলিয়েলমো মার্কোনির দ্বারা ১৮৯৬ দশকে রেডিও এর আবিষ্কার করা হয়েছিলো।

রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস

সারা বিশ্বে যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো রেডিও। চলুন এই আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে আসি।

James clerk maxwell তিনি প্রথম রেডিও আবিষ্কার আরম্ভ করেন। তিনি কাজ করেছিলেন ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গের উপরে কিন্ত এই বিষয় সঠিক কোনো তত্ত্ব দিতে পারেননি।

Hliver Heaviside এর পরে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া হয় কিন্ত তিনি সঠিক ভাবে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ বুঝতে পারলেন না।

Heinrich Rudolf Hertz দ্বারা সব শেষে ইলেক্ট্রেম্যাগনেটিক তরঙ্গ সফল ভাবে আবিষ্কার করা হয়। এর পরে জগদীশ চন্দ্র বসু এবং অলিভার লজ এই দুইজনের দ্বারা এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে গুলিয়েলমো মার্কোন দ্বারা রেডিও আবিষ্কার করা হয়। বিশ্বের প্রথম radio station চালু করা হয় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে।

আমার শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম রেডিও কে আবিষ্কার করেন? রেডিও কী এবং রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কে। আশাবাদী আমার লেখা আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লাগছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে