সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম

সৃজনশীল প্রশ্ন খেলার নিয়মঃ আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন প্রথম সৃজনশীল প্রশ্ন এর ব্যাপারটার নাম শুনি। সেই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে নতুন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করার প্রস্তাব আসে। আর এই পদ্ধতিই নাম হলো সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি। (সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম)

আমি প্রথমে মনে করতাম সৃজনশীল মানে বুঝায় একটি প্রশ্ন এর চার (৪) টি অংশ থাকবে। আর প্রতিটা নম্বার এর জন্য একটি লাইন লিখতে হবে। এক নম্বার এর জন্য এক লাইন আর চার নম্বারের জন্য চার (৪) লাইন লিখতে হবে।

যখন ক্লাস সিক্সে উঠলাম তখন জীবনের প্রথম পূর্ণরূপ সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির সাথে পরিচয় হই। সত্তি কথা বলতে সেই অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই জঘন্যতম ছিলো।

জীবনে প্রথমবার ৭ নম্বার ফাকা রেখে আসতে হয়েছিলো। আর সেদিন থেকে মনে হয়েছিলো এই “সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম” টাকে মোটোও হালকা করে নেওয়া যাবেনা।

আপনারা যারা স্কুল কলেজে পড়েন তারা ভালো করে জানেন সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির এ টু জেড। বর্তমানে ইন্টারনেটে ৭ টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা নিয়ে হাজার হাজার ট্রলও বের হয়েছে। তাছাড়া পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা সত্তি অনেক কষ্টের ব্যাপার।

তবে, আপনারা যদি একটু কৌশল অবলম্বন করেন তাহালে কিন্ত কষ্টটা অনেক লাঘব হয়ে যাবে। আর এজন্য আপনাদের জানতে হবে সঠিক নিয়মে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর করার নিয়ম। তাহালে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি।

সৃজনশীল প্রশ্নের স্তর

প্রত্যেক স্টুডেন্ট জানেন প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের ৪ টি করে স্তর থাকে। এই স্তর গুলো হলো জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক। আবার উচ্চতর গণিত বা গণিতের সৃজনশীল পদ্ধতিতে আবার ৪ টির স্তরের ৩ টি প্রশ্ন থাকে।

এই প্রশ্ন গুলো হলো – অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক। তাছাড়া প্রতিটি প্রশ্নের সাথে একটি করে অনুচ্ছেদ থাকে। ইসলাম শিক্ষা, বাংলা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এর মতো বিষয়ের সাথে অনুচ্ছেদ এর সাথে মিল রেখে বিভিন্ন প্রশ্ন দেওয়া থাকে।

তবে, গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেশিভাগ সময় গণিতের অনুচ্ছেদ এর তথ্য ব্যবহার করে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর করতে হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম

অবশ্যই সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য কিছু নিয়মবলি রয়েছে। মনে রাখবেন শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা প্রশ্নের উত্তর লিখলে নম্বার পাওয়া যায় না। আর আপনারা যদি এমন ভেবে থাকেন তাহালে সেটা সম্পর্ন ভুল।

ঘন্টার পর ঘন্টা লেখার পরে আপনি দেখলেন পাশের স্টুডেন্ট আপনার চেয়ে কম লেখে বেশি নম্বার পেয়েছে। তাহালে এমনটা হওয়ার কারণ কি? কারণ এখনো সৃজনশীল প্রশ্নের সঠিক ভাবে উত্তর দেওয়া নিয়মটা অজানা।

মনে রাখবেন পরিক্ষার খাতার সৌন্দর্য রক্ষা, বাক্যগঠন তথ্যভিত্তিক তথ্য উপাস্হাপন, প্রশ্নত্তরে স্বচ্ছতা থাকা বাঞ্চনীয়, সৃজনশীলের ক্ষেএে উদ্দীপক ও পাঠ্য বইয়ের সমন্বয় সাধন ইত্যাদির সমন্বয়নে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

একটি সৃজনশীল প্রশ্নের ৪ টি অংশের উত্তরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। এসব নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি আপনাকে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তরের জন্য আপনার সময় ২০ থেকে ২২ মিনিটের বেশি যেন না লাগে।

আপনারা যদি ২০ মিনিটের মধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখে ফেলতে পারেন, তাহালে দেখবেন নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পর্ন প্রশ্নের উত্তর লেখা সম্পর্ন হয়ে যাবে।

তাহালে চলুন নিচে থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম বা পদ্ধতি এবং সময় বন্টনের বিষয় গুলো জেনে আসি-

জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে ছোট হবে। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে এই অংশের প্রশ্নের উত্তর এক লাইনে শেষ করা আপনার জন্য শ্রেয়। অনেক স্টুডেন্ট রয়েছে যারা জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর এক শব্দে লিখে থাকে।

মনে রাখবেন, জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সব সময় বই থেকে আসে। আর এই প্রশ্নের সাথে উদ্দদীপকের অনুচ্ছেদের মিল থাকে না। এবং এই প্রশ্নের উত্তর আপনি ১ মিনিটের মধ্যে দিবেন।

অনুধাবনমূলক

এই অনুধাবনমূলক প্রশ্ন অনেক সময় বই থেকে দিয়ে থাকে। আবার কখনও কখনও উদ্দীপক হতেও প্রশ্ন আসতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর হবে দুই অংশে, কারণ এই প্রশ্নের নম্বার দুই। আপনারা সব সময় উত্তরে দুইটি প্যারা আকারে লিখবেন।

প্যারার প্রথম অংশে প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে কিছু জ্ঞানমূলক উত্তর দেবার চেষ্টা করবেন। আর শেষের অংশে প্রশ্নের মূল উত্তর কিছুটা গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করবেন।

প্রথম প্যারায় জ্ঞানের অংশ অল্প কথায় শেষ করে পরের প্যারায় নজর দিতে হবে। ৫ থেকে ৬ লাইনের মধ্যে সম্পর্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনার সময় ৬ থেকে ৭ মিনিট। দেখবেন বেশি সময় যেন খরচ না হয়।

প্রয়োগমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর থেকে পুরো সৃজনশীল প্রশ্নের একটি ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োগমূলক প্রশ্নকে যদি একটা মানব দেহের সাথে তুলনা করা হয় তবে, এই প্রশ্নের ভূমিকা হবে মূলদেহের মত।

এই অংশে উদ্দীপকের অনুচ্ছেদের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোনো অংশের পার্থক্য তুলে ধরতে বলা হয়। এই প্রশ্নের নম্বার হলো তিন। যেকারণে তিন প্যারায় উত্তর দিলে ভালো হয়।

প্রথম প্যারায় থাকবে কিছু জ্ঞানমূলক সমাহার। দ্বিতীয় প্যারায় মূলভাব লিখতে হবে এবং প্রশ্নে যেটা উল্লেখ করেছে সেটা সরাসরি ফেকাস করতে হবে। আর শেষ প্যারায় কিছুটা বাংলা রচনার উপসংহার এর মতো লিখতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সময় ৭ থেকে ৮ মিনিট।

উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নোত্তর

আগে থেকে বলে রাখা ভালো উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নোত্তরে সম্পর্ন নম্বার পাওয়া বেশ কঠিন, তবে অসম্ভব না। এই প্রশ্নের উত্তর সব সময় বড় হয় বলে নিরক্ষকেরা অনেকটা সময় নিয়ে দেখে। তাছাড়া এই প্রশ্নের উত্তরও ভিন্ন হয়।

অনেক সময় প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়। আবার অনেক সময় প্রশ্নে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বর্বণা করতে বলা হয়। আবার কিছু সময় দেখা যায় পশ্নের নিদিষ্ট কোনো উত্তর নেই, সেই যুক্তি দিয়ে বুঝাতে হয়।

উচ্চতর দক্ষতার জন্য আপনাদের খুব বেশি উচ্চতার দক্ষতার প্রয়োজন নেই। শুধুমাএ কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করলে যথেষ্ট। এই উত্তরের জন্য দেওয়া হবে চার নম্বার। এজন্য চারটি প্যারায় লেখার চেষ্টা করবেন। যার জন্য আপনি সময় পাবেন ৮ থেকে ৯ মিনিট।

সৃজনশীল প্রশ্ন গণিত

গণিতে সৃজনশীল নিয়ে আমাদের মাথায় চলে আসে নানা ধরনের চিন্তা ভাবনা। তবে, এটা সত্ত্য যে অন্য বিষয়ের তুলনায় গণিতে সৃজনশীল প্রশ্ন অনেক ভিন্ন। আপনাকে গণিতে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সময় বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে –

  • গণিতের উদ্দীপক সব সময় জরুরী ও তথ্যবহুল হয়। এজন্য উদ্দীপক থেকে খুঁটিনাটি খুঁজে বের করতে হবে।
  • গণিতের সৃজনশীল প্রশ্নের একঅংশের সাথে অন্য অংশের উত্তরের যোগসূএ থাকে। এজন্য কখনো প্রশ্নের কোনো অংশ বাদ দিয়ে পরের অংশে যাওয়া ঠিক হবে না।
  • অনেক সময় উদ্দীপকে প্রশ্নের আকার বিভিন্ন সুএের অংশ দেয়া থাকে।
  • কখনো হুবহু বইয়ের অংক সাধারণত গণিতের সৃজনশীলে দেয়া হয় না। তবে, বইয়ের বিভিন্ন কনসেপ্ট থেকে প্রশ্ন করা হয়। এজন্য প্রশ্নের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে ক্লিয়ার কনসেপ্ট থাকা বাঞ্ছনীয়।

আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে বেশি সম্বার উঠানো অনেক কঠিন। তাদের জন্য বলতে চাই নম্বার উঠানো যদি আপনার মূল লক্ষ্য থাকে তাহালে অবশ্যই সৃজনশীল প্রশ্ন কঠিক মনে হবে।

তবে, নিজের ভেতরের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সময়ে যথাযথা ব্যবহারের মাধ্যমে যদি প্রয়োজনীয় চেষ্টা উপস্হিত থাকে তাহালে সৃজনশীল তোমার কাছে মনে হবে একটা ছেলেখেলা।

আজকে আমরা কি শিখলাম

তাহালে বন্ধুরা আজকে আমরা শিখলাম সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম বা কৌশল সম্পর্কে। আশাকরি স্টুডেন্টদের জন্য আমার লেখাটি কাজে আসবে। আর লেখাটি কেমন লাগলো সেটা নিচে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap