এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডস লিমিট কেন হয় এবং সমাধান কি?

3
290
এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডস লিমিট কেন হয় এবং সমাধান কি?
এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডস লিমিট কেন হয় এবং সমাধান কি?

আমরা যারা ব্লগিং থেকে এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করি, তখন অবশ্যই আমাদের কাছে এডসেন্স এডস লিমিট একটি পরিচিত শব্দ। সাধারণত ব্লগ বা ওয়েবসাইটে যখন এডস লিমিট হয়ে যায় তখন আপনার সাইটে আর এড বা বিজ্ঞাপন দেখায় না। (ads limited AdSense)

বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের বলাবো এডসেন্স এডস লিমিট কি?, এডস লিমিট হওয়ার কারণ এবং কিভাবে এডস লিমিট সমাধান করা যাবে সেই উপায় গুলো সম্পর্কে।

এডসেন্স এডস লিমিট কি (What is AdSense add  limit)

সহজ ভাবে বলতে গেলে এডসেন্স এডস লিমিট হলো এডসেন্স সাইটে বিজ্ঞাপন না দেখানো বা কম দেখানো কে বলা হয় এডস লিমিট। Adds limit এর বাংলা শব্দে রূপান্তরিত করলে দেখা যায় বিজ্ঞাপন সীমা মানে সাইটে অল্প আকারে বিজ্ঞাপন দেখানো হলো এডস লিমিট।

আপনার ব্লগে যদি কখন ও এডস লিমিট হয় তাহালে  আপনাকে এডসেন্স থেকে মেইল করে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপনি এই ধরনের মেইল পাবেন Ads limit placed on your site.

মনে রাখবেন, এডসেন্স এডস লিমিটেড হলে আপনার সাইটে কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না। তাছাড়া আপনি যদি বিজ্ঞাপনে নাও ক্লিক করেন তাহালে ও অনেক সময় এডস লিমিট হতে পারে। আর যদি ও আপনার ব্লগে অল্প বিজ্ঞাপন দেখিয়ে থাকে তাহালেও টাকা ইনকাম হবে না।

এডস লিমিট কেনো হয়?

গুগল এডসেন্স সব সময় এথিক্যাল কাজ গুলোক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এজন্য যারা অসাধু উপায় অবলম্বন করে এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার চিন্তা করে তাদেরকে শাস্তি হিসাবে এডস লিমিট করে দেয়।

তাছাড়া এডস লিমিট (ads limit) হওয়ার প্রধান কারণ হলো ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ইনভ্যালিড ক্লিক। ইনভ্যালিড ক্লিক কিভাবে হয় এবং কিভাবে এডস লিমিট হয় সেটা আমি নিচে উল্লেখ্য করছি,

এডস লিমিট হওয়ার কারণ সমূহ

  • ইনভ্যালিড ক্লিক।
  • নিজের বিজ্ঞাপন নিজে ক্লিক করা।
  • ভিজিটর্সদের বিজ্ঞাপন ক্লিক করতে বাধ্য করা।
  • হঠাৎ করে বিজ্ঞাপন ক্লিকের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া।
  • ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ বা ট্রাফিক বট করে সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা।
  • সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি ভিজিটর আসা এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে কত ভিজিটর আসা।
  • এডসেন্স এড সঠিকভাবে প্লেসমেন্ট না করা।

ইনভ্যালিড ক্লিক করা

এজন্য আমরা যারা ব্লগিং করে এডসেন্স থেকে আয় করি তাদের জানতে হবে ইনভ্যালিড ক্লিক কি। আসলে ভুল ভাবে বিজ্ঞাপন কেই ক্লিক করলে  CTR অনেক বেড়ে যায়। আর যখন হঠাৎ CTR বেড়ে যায় তখন এডসেন্স এডস লিমিট (AdSense ads limit) করে দেয়।

নিজের বিজ্ঞাপন নিজে ক্লিক করা

মনে রাখবেন ১০% এর বেশি CTR যখন হয়ে যাবে তখন এডস লিমিট হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা নিজের বিজ্ঞাপন নিজে ক্লিক করে ইনকাম বাড়ানোর জন্য।

কিন্ত, এতে হিতে বিপরীত হয় যায়। মনে রাখবেন নিজের বিজ্ঞাপন নিজে ক্লিক করলে অবশ্যক এডস লিমিট চলে আসবে। আবার একই আইপি (IP) থেকে বার বার এডে ক্লিক করলে হলেও এডস লিমিট হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়।

ভিজিটর্সদের বিজ্ঞাপন ক্লিক করতে বাধ্য করা

অনেকে চালাকি করে এমন ভাবে কন্টেন্ট পাবলিশ করে যেনো কন্টেন্ট দেখতে গেলে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হয়। আসতে সত্তি বলতে এটা ভিজিটরদের কাছে বিরক্তিকর এবং এডসেন্স এর কাছে অনৈতিক।

আবার অনেকে আছেন যারা এডসেন্স এর এডস লিংক সরাসরি দিয়ে দেয় যাতে ভিজিটররা ক্লিক করলে আপনার ইনকাম হবে। আপনি যদি এমন করে থাকেন তাহালে মনে রাখবেন একটা সময় আপনাকে এডসেন্স এডস লিমিট করে দিবে।

হঠাৎ করে বিজ্ঞাপন ক্লিকের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া

হঠাৎ যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিকের পরিমান বৃদ্ধি পায় তাহালে ads limit আসতে পারে। মনে করুন, প্রতিদিন আপনার এডসেন্স একাউন্টে ৫ টি ক্লিক হয় কিন্ত হঠাৎ একদিন ১০০ ক্লিক হলো তখন গুগল এডসেন্স এটাকে স্প্যাম হিসাবে ধরে এবং যার ফলে এডস লিমিট করে দিতে পারে।

ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ বা ট্রাফিক বট করে সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা।

এমন অনেকে আছেন যারা নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক না করে ট্রাফিক বট বা ভিজিটর এক্সচেঞ্জ করে সাইটে ট্রাফিক বাড়িয়ে থাকে। কিন্ত এই রকম ট্রাফিক বট গুলো একই আইপি (IP) থেকে জেনারেট হওয়ার জন্য আপনার সাইটে আসা ভিজিটর গুলোকে স্প্যাম এবং ক্লিক গুলোকে ও স্প্যাম হিসাবে গণ্য করা হয়।

এজন্য ট্রাফিক বট বা ভিজিটর এক্সচেঞ্জ করে সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসলে এডস লিমিট হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসা

আমাদের মধ্যে অনেক ব্লগার রা আছেন যারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে বড় বড় পেজ তৈরি করে সেখানে কন্টেন্টের লিংক শেয়ার করে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর নিয়ে আসে। কিন্ত এটা একটা মারাত্মক ভুল। কারণ আপনার সাইটে যদি গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ভিজিটর না আসে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিজিটর আসে তাহালে এডস লিমিট হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

তবে, সাইটে অর্গানিক ভিজিটর এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিজিটর এর মধ্যে অনুপাত যদি ঠিক থাকে তাহালে কোনো সমস্য নেই। কিন্ত যদি এমন হয় অর্গানিক ট্রাফিক ১০% আর সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাফিক ৯০% তাহালে এডস লিমিট হয়ে যাবে।

এডসেন্স এডস সঠিক ভাবে প্লেসমেন্ট না করা

অনেকে আছেন যারা এডসেন্স থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেশি ইনকামের আশায় সাইটে অনেক বেশি পরিমানে এডস বসায়। যার ফলে ভিজিটরদের কন্টেন্ট দেখতে বা পড়তে বেশ অসুবিধা হয়ে যায়।

তাছাড়া অনেক সময় আমরা সঠিক জায়গায় এডস বসাতে পারি না। ভুল জায়গায় বেশি পরিমানে ads বসানোর কারণে সাইটে এডস লিমিট হয়ে যেতে পারে।

এডসেন্স এডস লিমিট হলে করণীয় কি?

আপনার সাইটে যদি এডনেন্স থেকে এডস লিমিট করে দেয় তাহালে সেটা জন্য কোনো আপিল বা ফিডব্যাক দেওয়া সুযোগ এডসেন্স দেয়া না। আসলে এডস লিমিট হয় একটি নিদিষ্ট সময়ের জন্য। তারপরে নিজে নিজে এডস লিমিট উঠে যায়।

অনেক সময় দেখা যায় এডস লিমিট দেওয়া হয় ১ মাসের জন্য, আবার ১ মাস পরে নিজে অটোমেটিক এডস লিমিট উঠে যায়। এডস লিমিট হলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এডস লিমিট হয় এমন কাজ আর কখনো করা যাবে না। তাছাড়া এডস লিমিট ছাড়ানোর জন্য অবশ্যই সাইটে বেশি বেশি অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে।

এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায় বা সমাধান

এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায় হলো এথিক্যাল ওয়েতে আগাইতে হবে। আর কখনো নিজের বিজ্ঞাপন নিজে ক্লিক করা যাবে না। তাছাড়া একই আইপি থেকে বার বার ক্লিক করা যাবে না।

সকল ধরনের ইনভ্যালিড ক্লিক থেকে সাইডকে প্রোটেক্ট করতে হবে। এজন্য আপনারা সাইটে CDN হিসাবে cloudflare CDN ব্যবহার করতে হবে। কারণ, এই cloudflare CDN আপনাদের সাইটে সকল ধরনের ইনভ্যালিড ক্লিক এবং বট ট্রাফিকের বিরুদ্ধে প্রটেক্টশন করবে।

তাছাড়া ক্লাউডফ্লেয়ার আপনার সাইটের DDOS এট্যাক থেকে ও সুরক্ষিত রাখবে। আর মনে রাখবেন, কোনো ভাবে ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ করে সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসবেন না। আর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই।

যাতে অর্গানিক বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা ট্রাফিক গুলোর অনুপাত যেনো সঠিক থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন।

আর সব সময় সঠিক নিয়ম মেনে এডস বসাবেন। আমার পরামর্শ থাকবে ১০০০ শব্দের আর্টিকেলের মধ্যে ২ থেকে ৩ টা এডসেন্স এর এডস বা বিজ্ঞাপন বসাবেন। আর কখনো এডসেন্স এর সাথে সরাসরি লিংক করবেন না।

সব সময় চেষ্টা করবেন যাতে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে বেশি বেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য। আর এটার জন্য আপনার কন্টেন্ট গুলো লেখার সময় কিওয়ার্ড রিচার্স করে আর্টিকেল লিখবেন এবং সুন্দর করে এসইও (SEO) করবেন।

তাহালে কখনো এডসেন্স থেকে এডস লিমিট হবার সম্ভবনা থাকবে না।

আজকে আমরা কি শিখলাম

তাহালে বন্ধুরা আজকে আমরা শিখলাম এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডস লিমিট হওয়ার কারণ সমূহ, এডস লিমিট হলে কি করণীয় এবং এডসেন্স এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায় বা সমাধান কি?

আশাকরি, এডস লিমিট সম্পর্কে আপনাদের আর কোনো সমস্য নেই। আমার লেখা এই আর্টিকেল সম্পর্কে যদি কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে তাহালে নিচে কমেন্টে জানিয়ে দিবেন। শেষে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।

3 মন্তব্য

  1. Hooligan Media দিয়ে মনিটাইজেশন অনেক সহজ। পেমেন্ট ও ভালো। এটা দিয়া website, blog, youtube channel সবই মনিটাইজ করা যায়। রেগুলার পেমেন্ট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে