চাকরি খোঁজার সময় যে কাজ গুলো কখনো করবেন না

0
142
পড়াশোনা শেষ করার পরে আপনি চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না। নানা দিকে খোঁজ করার পরেও কোনো উপায় করতে পারছেন না। ধীরে ধীরে আপনার চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছে, ক্রমে হতশা বেড়ে যাচ্ছে। কিন্ত আপনি অন্যের উপর নির্ভর করবেন আর কতদিন। কিন্ত অনেক চেষ্টা করে ও আপনি চাকরি জোগাড় করতে পারছেন না। আবার অনেকে হওতো পুরানো চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন চাকরি খোঁজ করছেন কিন্ত কোনো ভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। হয়তো এমন কিছু ভুল আপনার হচ্ছে যেটা আপনার চেখে ধরা পড়ছে না।
পড়াশোনা শেষ করার পরে নিজের পছন্দমত চাকরি পাওয়া সত্তি অনেক কঠিন। তবে, হা এমন কিছু কাজ রয়েছে যা চাকরি খোঁজার সময় কখনো করা উচিত নয়। হয়তো এই কাজগুলোর জন্য আপনার ভালো ভালো চাকরি হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কী সেই কাজ গুলো এবং তার সসমাধান কী? চলুন নিচে থেকে দেখে আসি।
চাকরি খোঁজার সময় যে কাজ গুলো কখনো করবেন না
(1) সিভি সঠিক ভাবে না লেখা
আপনি হয়তো ভাবছেন চাকরির জন্য একটি রেজুমে জমা দিবেন। এখানে আবার সঠিক/ভুল কিসের কী? কিন্ত আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরির জন্য রেজুমে জমা দিচ্ছেন সেখানে আপনার মতো শতধিক মানুষ চাকরির জন্য প্রতিদিন রেজুমে জমা দিচ্ছে। এই সকল রেজুমে থেকে তাদের কাছে যার যোগ্য মনে হবে তাকে ডাকা হবে। আসলে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান দেখতে চায় আপনার রেজুমে যা রয়েছে তা দিয়ে আপনি কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানে কতটা সাহায্য করতে পারবেন। মোট কথা আপনি তাদের প্রয়োজন মিটাতে পারবেন কিনা।
এজন্য আপনি যখন কোনো সিভি (CV) লিখবেন চাকরির জন্য তখন চাকরির সাথে আনুষঙ্গিক সকল বিয়ষে লিখে দিবেন। আপনার মধ্যে কী কী স্কিল জানা আছে সেগুলো সব উল্লেখ করবেন। আপনি ছাএজীবন থেকে কোথায় কোথায় কাজ করছেন, কোন কোন ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন, কোথাও ইন্টারশিপ করছেন কিনা সব কিছু সুন্দর ভাবে লিখে দিবেন।
অনেকে আমরা সিভির সাথে কভার লেটার দেওয়া কথা ভুলে যায়। মনে রাখবেন আপনি যদি কোথাও সিভি পাঠান তাহালে কেনো তার কাছে CV পাঠাচ্ছেন সেটা উল্লেখ করার নিয়ম অবশ্যই আছে। আপনি যদি খামে করে সিভি পাঠান তাহালে সিভির পাশাপাশি আলদা একটি কাগজে খাম করে কভার লেটার লিখে একই খামে পাঠানো উচিত। আর যদি ইমেইল করে সিভি পাঠাতে বলা হয় তাহালে ইমেইলের বডিতে কভার লেটার লিখে দিবেন। হতে পারে এ সব কারণে তারা আপনাকে ডাক দিলো সাক্ষাৎকাতের।
(2) অযথা চাকরির আবেদন করা
আমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে যারা অযথা চাকরির আবেদন করে। মনে করুন, আপনি ব্যবসায়ী শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন। এখন আপনি এমন একটা চাকরিতে আবেদন করলেন যেখানে আপনাকে কাজ করতে হবে সি++ প্রোগ্রামিং নিয়ে। তাহালে আপনি কি সেটা পারবেন। সত্তি বলতে স্বাভাবিকভাবে সেটা আপনার পারার কথা নয়। আপনি যদি মিথ্যাচার করে এমন চাকরিতে ডুকে পড়েন তাহালে পরে কিন্ত আপনাকে ঝামেলায় পড়তে হবে। এজন্য সব সময় যোগ্যতা বুঝে চাকরির আবেদন করুন।
(3) ভাইভা বোর্ডে একেক জনকে এককে উত্তর দেওয়া
আপনি হয়তো জানেন ভাইভা বোর্ডে কিন্ত এক জন ব্যাক্তি বসে ভাইভা নেয় না। সেখানে ৪-৫ জন্য ব্যাক্তি থাকে। তারা আপনাকে একটি প্রশ্নের জের ধরে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারে। তখন আপনি যদি দুজনকে দুরকম উত্তর দেন তাহালে সেটা আপনার জন্য খারাপ হবে। ভাইভা বোর্ডে সব সময় সরল ভাবে কথা বলুন। কখনো বেশি তথ্য বলতে যাবেন না তাহালে ঝামেলায় পড়ে যাবেন।
(4) পোশাক নিয়ে খামখেয়ামি মনোভাব
আপনার নিজের বেশভূষার উপর অনেকটা নির্ভর করে আপনি চাকরি পাবেন কি না। একটি ভাইভা বোর্ডে আপনার যাওয়ার নিয়ম ফর্মাল ড্রেসে। চাকরিদাতারা সব সময় চাই ফর্মালিটির মধ্যে দিয়ে যেতে। তারা চায় আপনার মধ্যে একটি প্রফেশনাল ভাব থাকুক। আপনার ড্রেস তাদের যদি পছন্দ না হয় তাহালে তারা কিন্ত আপনাকে বাদ দিতে পারে। অনেক ভাইভা বোর্ডে কিন্ত ড্রেসের ব্যাপার বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ড্রেসের জন্য অনেক সময় অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দেয়। এজন্য আপনাকে ভাইভা দেওয়া সময় ফর্মাল ড্রেস পড়তে হবে। এখনে ফর্মাল ড্রেস বলতে শার্ট, প্যান্ট, শু, হাতঘড়ি (ছেলেদের জন্য) আর শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ (মেয়েদের জন্য)।
(5) সহকর্মীদের অপমান না করা
ধরে নিলাম আপনা পূবে কোনো একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। কিন্ত সেটা আপনার জন্য বেশি সুবিধার ছিলো না। বস খারাপ ব্যবহার করতো। অযথা কষ্ট দিতো আপনাকে। বেতন দিতো না ঠিক মতো। আপনার সহকর্মীরা আপনার কাজে সহযোগীতা করতো না। এসব কথা আপনাকে ভুলে যেতে হবে। কারণ ভাইভা বোর্ডে অনেক সময় প্রশ্ন করা হয় আপনি আগের চাকরি কি জন্য ছেড়ে দিয়েছেন? তখন আপনাকে সুন্দর একটি উত্তর দিতে হবে। আপনি যদি পরিস্থিতির দোষ দিয়ে থাকেন তাহালে আবার আগের পরিস্থিতির শিকার হবেন না তার কী নিশ্চয়তা আছে।
(6) হাল ছেড়ে না দেওয়া
আপনি অনেক কোম্পানি / প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্ত চাকরি হচ্ছে না। এই অবস্থায় হাল ছেড়ে দিয়ে চলবে না। আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আপনার যোগ্যতা আপনাকে নিদিষ্ট জায়গাই পৌঁছাই দিবে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং প্রার্থনা করুন। মনে রাখবেন, ”পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবে”। কখনো মনে করবেন না “আপনার দিয়ে আপনার দিয়ে কিছু হবে না”। এ কথায় কান দিবেন না। তনো রাখবেন “আপনাকে দিয়েই সম্ভব”।
কথা গুলো মনে রাখবেন
বর্তমানে চাকরির বাজার মানে প্রচুর পরিমানে প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে হলে আপনার নিজের প্রতি আত্তবিশ্বাস রাখতে হবে। নিজের উপর এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আপনার যদি যোগ্যতা থাকে তাহালে অবশ্যই আপনার কোনো না কোনো গতি ঠিকই হবে। আমার লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে