ইউটিউব কি? এর ইতিহাস এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানুন

0
149
ইউটিউব কি? এর ইতিহাস এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানুন
ইউটিউব কি এর ইতিহাস এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানুন

আজকের এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য যারা জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউব সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাই আজকে আমি আপনাদের বললো ইউটিউব কি (what is YouTube) সেই সম্পর্কে বিস্তরিত ভাবে।

বর্তমানে আমরা ইন্টারনেটে দুই ধরনের সার্চ পেয়ে থাকি। এই সকল সার্চ ইঞ্জিন গুলোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরনের তথ্য খুঁজে থাকি। এই সার্চ ইঞ্জিন গুলোর মধ্যে প্রথম হলো, গুগল সার্চ ইঞ্জিন এবং দ্বিতীয় হলো, ইউটিউব সার্চ ইঞ্জিন

Google হলো বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় এবং অধিক ব্যবহার হওয়া ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন। আমরা যখন কোনো বিষয়ে জানতে চাই, তখন সেই বিষয়ে সার্চ করলে তার সমাধান পেয়ে যায়।

এই সমস্যার সমাধান হিসাবে গুগল আমাদের বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের তালিকা দেখিয়ে দেয়, যেখানে সমাধান এর তথ্য রয়েছে। গুগলে প্রায় প্রতিদিন 5.6 bullion search হয়ে থাকে।

চলুন, এবার YouTube এর বিষয়ে কথা বলি, বর্তমানে মানুষের ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো সমস্য খুঁজে নেওয়া একটা সাধারন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে আছেন যারা তাদের প্রশ্নের উত্তর গুলো blog বা website এর মাধ্যমে না খুঁজে, ভিডিও এর মাধ্যমে পেতে চাই।

আর এই ক্ষেত্রের জন্য ব্যবহার করা হয় জনপ্রিয় প্লাটফার্ম YouTube. YouTube হলো, গুগলের পরে সব থেকে জনপ্রিয় অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন। যার মাধ্যমে মানুষরা ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকেন।

মনে রাখবেন, Google এর পরে সব থেকে বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইট হলো YouTube. এর মাধ্যমে প্রতিদন মানুষরা প্রায় 1 billion ঘন্টার ভিডিও ইউটিউবের মাধ্যমে দেখে থাকেন। তাহালে চলুন নিচে থেকে জেনে আসি ইউটিউব কি এবং ইউটিউব সম্পর্কে তথ্য গুলোর ব্যাপারে।

ইউটিউব কি? (What is YouTube in bangla)

YouTube হলো মূলত এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে বিভিন্ন ধরেনের ভিডিও আপলোড করে শেয়ার করা হয়। আপনি নিজেও ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও বানিয়ে এই ওয়েবসাইটে আপলোড করে মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

আপনার আপলোড করা পাবলিশ ভিডিও গুলো যেকেউ ইউটিউব ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারবে। তাই সহজ ভাবে বলতে গেলে, ইউটিউব হলো একটি online video sharing ওয়েবসাইট।

আর এই YouTube হলো গুগলের একটি সার্ভিস। যাকে সম্পর্ন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গুগল। California এবং San Bruno তে রয়েছে ইউটিউবের headquarter. গুগল সার্চ ইঞ্জিন এর মতো ইউটিউবকে সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে ধরা হয়।

কারণ, YouTube এর ওয়েবসাইট ও Google এর মতো একটি Search box রয়েছে। এই সার্চ বক্সে মানুষরা কোনো বিষয়ে লিখে সার্চ করে তখন সেই বাক্যের সাথে জড়িত ভিডিও গুলো সার্চ রেজাল্টে দেখানো হয়।

এটা সম্পর্ন ভাবে নির্ভর করে YouTube search algorithm উপরে। আশাকরি সহজে বুঝতে পারছেন YouTube কি এবং ইউটিউব কি ধরনের সাইট

ইউটিউব এর ইতিহাস (History of YouTube)

যখনই ইউটিউব এর ইতিহাস নিয়ে কথা বলা হয় তখন আমাদের জানার প্রয়োজন হবে ইউটিউব কে তৈরি করেছে এবং ইউটিউব এর প্রতিষ্ঠাতা কে? Chad Hurley, Jawed Karim এবং Steve Chen YouTube এর সার্ভিস তৈরি করেন।

এই সার্ভিসটি তৈরি করা হয়েছিলো 2005 February সালে। তারা বলেছিলো 14 February, 2005 প্রথম YouTube.com নামে একটি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছিলো।

YouTube সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস

  • ইউটিউবের প্রথম ভিডিও যেটা ১ মিলিয়ন ভিউ হয়েছিলো সেটা ছিলো NIKE এর বিজ্ঞাপন, যেখানে Ronaldinho কে দেখানো হয়েছিলো।
  • ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর মাসে YouTube official ভাবে launch হয়।
  • প্রথমের সেই সময়ে ইউটিউবে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ভিউস হতো।
  • ২০০৬ সালে YouTube কে Google দ্বারা অর্জিত করা হয় $১.৬৫ ব্রিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে।
  • ২০১০ সালের ৩১ শে মার্চ ইউটিউব ওয়েবসাইটে নতুন একটি ডিজাইন launch করা হলো।
  • ২০১০ সালের মে মাস থেকে ইউটিউবের ভিডিও গুলো ২ ব্রিলিয়ন এর বেশি বার দেখা হতো।
  • ২০১১ সালের মে মাসে ইউটিউবে প্রায় ৪৮ ঘন্টার নতুন ভিডিও প্রতি মিনিটে আপলোড করা হয়েছিলো, তবে এই সংখ্যা ২০১২ সালে ৬০ ঘন্টা প্রত্যেক মিনিটে পরিণত হয়।
  • ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে ইউটিউবে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউনিক ইউজার ছিলো।
  • ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Susan Wojcicki কে YouTube CEO নিযুক্ত করা হয়।
  • ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে YouTube kids নামের ইউটিউবের secondary mobile app রিলিজ করা হয়।
  • ২০১৮ সালের ১৭ মে YouTube red সার্ভিস টিকে YouTube Premium নামে launch করা হয়।

এভাবে, ধীরে ধীরে ইউটিউব বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটে সব থেকে বেশি সংখ্যাক ভিজিটরদের তালিকায় দ্বিতীয় ওয়েবসাইটের স্থান লাভ করে। আশাকরি, YouTube এর সম্পর্ন ইতিহাস সহজে বুঝতে পারছেন।

আধুনিক সময়ে ইউটিউব এর ব্যবহার

আধুনিক সময়ে ইউটিউবের ব্যবহার প্রচুর পরিমানে করা হয়। ইন্টারনেট সক্রিয় থাকা অন্যান্য সকল ওয়েবসাইট এর তুলনায় বহু গুনে YouTube ব্যবহার করা হয়।

কারণ, বর্তমানে আমাদের সকলের হাতে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট রয়েছে। তাই মাত্র একটি ক্লিক করে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো ভিডিও ইউটিউবের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে ইউটিউব ব্যবহার করা হয়?

১. অনলাইন টাকা ইনকাম

বর্তমানে ঘরে বসে টাকা আয় করার সহজ উপায় হলো ইউটিউব। তাই আপনি একটি YouTube channel তৈরি করে বেশি পরিমানে সাবস্ক্রইব এবং ভিডিও ভিউ পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে এই চ্যানেলে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন লাগিয়ে ভালো পরিমানে আয় করতে পারবেন।

২. শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন ক্লাস করার জন্য ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা হয়। তাছাড়া, এখানে বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স করা, জ্ঞান অর্জন করার সহজ বিষয় হিসাবে ইউটিউব ব্যবহার করা হয়।

৩. মনোরঞ্জন এর ক্ষেত্রে

আমরা প্রায় সবাই ইউটিউবের বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক ঘন্টা, আধাঘন্টা নানা ধরনের ভিভিও দেখে মনোরঞ্জন করে থাকি। এগুলো হলো, গান, সিনেমা, কার্টুন ভিডিও, ফানি ভিডিও, ওয়েব সিরিজ ইত্যাদি।

৪. অনলাইন মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে বর্তমানে যেকোনো সার্ভিস বা প্রডাক্ট প্রচার করার YouTube জনপ্রিয় এবং সেরা মাধ্যম। বর্তমানে ইউটিউবের মাধ্যমে অনলাইনে মার্কেটিং করার কাজ অনেক সহজ এবং লাভজনক।

৫. নিজেকে ফেমাস করা

অনেকে আবার ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও এর মাধ্যমে নিজেকে ফেমাস বা জনপ্রিয় করার কাজ করছে। এমন অনেক Youtuber রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

৬. টাইম পাস (Time pass)

ইউটিউব থাকতে কেন আপনি একা একা সময় কাটাবেন। কারণ, এখান থেকে নানা ধরনের ভিডিও দেখে আমরা টাইম পাস করতে পারবেন। তাই টাইম পাস করার জন্য সেরা এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো YouTube.

ইউটিউবে কেন ভিডিও আপলোড করবেন?

আপনার মনে হয়তো এমন প্রশ্ন আসতে পারে সারা বিশ্বের মানুষরা কেন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করছেন? এতে তাদের লাভ কি হয়?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো,

বর্তমান সময়ে YouTube হয়ে গেছে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার সেরা এবং লাভজনক মাধ্যম। কারণ, একবার যদি আপনার চ্যানেলে ভালো পরিমানে Subscribers হয়ে যায় তাহালে বিভিন্ন মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন।

যেমন,

  1. Google AdSense এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে।
  2. Affiliate Market এর মাধ্যমে।
  3. নিজের আপলোড করা ভিডিও গুলোতে পেইড প্রোমোট করে।

এছাড়া, আরো অনেক গুলো মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে থেকে টাকা আয় করা সম্ভব। তাছাড়া, আপনি বিভিন্ন কোম্পনির সার্ভিস বা প্রডাক্ট গুলো ভিডিও এর মাধ্যমে প্রচার করে আয় করতে পারবেন।

আজকে আমরা কি শিখলাম

তাহালে, বন্ধুরা আজকে আমরা শিখলাম ইউটিউব কি (what is YouTube)? এবং ইউটিউব সম্পর্কে তথ্য এর ব্যাপারে। আশাকরি, আমার লেখা about YouTube in bangla আর্টিকেলটি যদি ভালো লাগে, তাহালে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে