zaheed sabur গুগলের প্রথম বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার

0
204
zaheed sabur গুগলের প্রথম বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়
zaheed sabur গুগলের প্রথম বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়

zaheed sabur – বিশ্ব বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রথম বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে জাহিদ সবুর। বাংলাদেশ থেকে তিনি প্রথম গুগলের ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কিভাবে এখানে পৌঁছেয়াছে সেটাই জানবো আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে।

গুগলে তার কাজ কি

আমি zaheed sabur google এ কাজ করি। প্রথম থেকে আমি নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করতে ভালবাসতাম। আর বর্তমানে আমার কাজ হলো কোডিং লেখা। কিন্ত গত দুই তিন বছরে আমি একটিও কোডিং লিখেনি।

এই কোডিং লেখার জন্য গুগলে আমার ৬০ থেকে ৭০ জনের একটা প্রকৌশলী দল রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন টিমের কয়েক শত মানুষ আমার প্রকল্পে কাজ করে। কয়েক বছর আগে রিলিজ হওয়া গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্মার্ট ডিসপ্লে আমার নেতৃত্বে তৈরি করা।

আমার এটা ভাবতে অবাক লাগে যে, আমার বড় আপুর দোকান থেকে কিনে দেওয়া স্মার্ট ডিসপ্লে যে আমি উপহার দিয়েছি সেটা আমার টিমের তৈরি করা। আরো আনন্দের ব্যাপার হলো, এই প্রকল্পের লিড হিসাবে গুগল আমাকে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতি করেছে। 

আর এখন আমি এন্ড্রয়োড স্মার্টফোনের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টের নেক্সট জেনারেশন তৈরির কাজ করছি। এটা কিন্ত গুগলের জন্য অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প।

আমার সংগ্রাম করার দিন গুলো

আমি সংগ্রাম করেছি মূলত এআইইউবিতে ঢোকার আগে। মাধ্যমিক লেভেলে আমি ইংরেজি সাবজেক্টে বাদে অন্যান্য সকল বিষয়ে এ গ্রেড পেয়েছি। আমি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলে ও আমার মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে খুব দুর্বল ছিলো। 

আসলে বাংলা ছিলো আমার শেখার নেশা। আমার বড় আপুর বাংলা বইয়ের বিশাল সংগ্রহের সকল বই গুলো আমি পড়ে শেষ করেছিলাম।

আমার বয়স যখন ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে তখন আমার মাথায় একটা ব্যবসা করার আইডিয়া চলে আসে। তখন আমি অনেক কষ্ট করে একটি ব্যবসা দাঁড় করার ছিলাম। এই ব্যবসার কারণে আমি তেমন ভাবে পড়াশোনার দিকে মন দিতে পারিনি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার মতো যোগ্যতা আমার ছিলো না। তাই অল্প সময়ে অনেক বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম, কিন্ত সব কবছু বিলীন হয়ে গেলো। এই ব্যবসাটা আরম্ভ করা আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল ছিলো। 

zaheed sabur ভুল থেকে যে শিক্ষা নিয়েছে

এই ভুল থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছিলাম জীবনে অল্প বা শর্টকাট কোনো কিছু খোঁজ করবো না। তখন এআইইউবিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমার জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছিলো।

আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার কারণে আমার আত্মীয় স্বজনরা নানা রকমের কটাক্ষ কথা বলতো মাকে। তারা বলতো আমি নাকি মুদির দোকানে পড়ি।

তাদের এই কটাক্ষ কথা গুলো আমার খুব খারাপ লাগতো। তাদের কথা গুলো ভুল প্রমান করতে আমার সময় লাগছে কয়েক বছর। কিন্তু আমি কখনো ধৈর্য হারিয়ে ফেলিনি। যখন আমার পড়াশোনা করতে অলসতা লাগতো তখন ঔ কথা গুলো মনে করে দিগুণ উৎসহে এগোতাম।

এআইইউবিতে পড়ার ঔ সময় গুলো আমার কাছে অনেক মজার ছিলো। তখন পড়াশোনা করার বাহিরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতাম। এআইইউবিতে আমি যা শিখেছি তার উপর ভিত্তি করে আমি গ্রেড পেয়েছি। আমি কখনো মুখস্থ করে সময় নষ্ট করতাম না।

ঔ সময় আমি প্রোগ্রামিং শেখার উপর অনেক বেশি সময় দিতাম। আমার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া ছিলো পেশা আর নেশা ছিলো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা করা। এর পরে আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আমি অনেক ভালো অর্জন করি।

কিভাবে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আমার জীবন সহজ করে দিয়েছিলো

আমি যখন এআইইউবিতে তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছিলাম তখন একটি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ফাইনালে গুগল আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলো। এর কয়েক মাসের মধ্যে ২০০৬ সালে গুগল থেকে প্রস্তাব পেয়ে যায়।

এর পরে ও আমি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে সিজিপিএ ৪.০০ পায়। ভ্যালিডিক্টরিয়ান হিসাবে আমি যে সমাবর্তন গুলো পেয়েছি সেগুলো হলো, চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড, প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, সুম্মা কুম লাউডে, এক কথায় কোনো কিছুই বাদ দেয় নি।

পরবর্তী সময় দেখা গেলো আমার ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তখন আমি কয়েক মাস কষ্ট করে জিআরই দিয়ে আমেরিকার সেরা ৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করি পিএইচডি করার জন্য।

অনেকে আমার এই আবেদন করা নিয়ে হাসাহাসি করেছিলো। তারা বলেছিলো যে কিনা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে ডিগ্রি অর্জন করেছে সেকিনা আমেরিকার পিএইচডি করবে। তবে, আনন্দের সংবাদ হলো ৬ টির মধ্যে ৪ টিতে আমি ফান্ডিংসহ পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

আমার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার রেজাল্ট এবং জিআরই স্কোর অনেক ভালো থাকার কারণে আমি সুযোগ পেয়ে যায়। এর পর আমি গুগলে কাজ করার জন্য ভিসা পেয়ে যায়। মা বাবা বলেছিলো পিএইচডি করার জন্য, কিন্ত জাহিদ সবুর গুগলের চাকরি হাত ছাড়া হতে দেয়নি।

zaheed sabur এর ছেলেবেলার গল্প

আমার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবে। কারণ, আমার বাবা ডা. শাহজাহান ছিলেন সৌদি আরবের কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আর মা লুৎফুন্নেসা দেশ ছাড়ার আগে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

তবে, আমার পিতা মাতার দেশের বাড়ি ছিলো পটুয়াখালী। আমার বয়স যখন ৭ বছর তখন আমি বাবা মার সাথে স্থায়ী ভাবে দেশে ফিরে আসি। দেশে আসার পরে আমার শিক্ষক ছিলেন বাবা মা আর বড় বোন রীম জুন।

স্কুল জীবনে আমি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হয় ক্লাস দ্বিতীয় শ্রেণীতে। বাবা-মা, আপুর কাছ থেকে ৩ মাস পড়ার পরে ঔ স্কুল থেকে প্রথম আমি বৃত্তি পায়। সেই সময়ের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আমি পুরস্কার গ্রহন করি। গুগলতে যোগ দেওয়ার আগে আমি ঢাকায় বেড়ে উঠেছি।

গুগলে আমি কবে থেকে যোগ দিয়েছি

২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এআইইউবি থেকে সমাবর্তন আমি মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে গুগলে যোগ দেয়। শুরুতে আমি গুগলে যোগ দিয়ে ছিলাম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে।

তবে, আমিই প্রথম গুগলে বাংলাদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিয়েছি। আমার পরে অনেক বাংলাদেশী ভাইরা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে গুগল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিয়েছে।

শুরুতে যখন আমি যোগ দেয় তখন আমার লেভেল ছিলো ৩ নম্বর। এর পরে আমার লেভেল ৮ এ পৌঁছেয়ে গেল। আর তখন আমাকে গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম।

বাংলাদেশী হিসাবে প্রথম আমি পরিচালক হয়ে গেলাম। আমি কখনো ভাবিনি বাংলাদেশের ছেলে এই তালিকায় থাকবে। গুগলে প্রায় ১ লক্ষ ফুলটাইম কর্মী রয়েছে। যার মধ্যে ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। আর এর মধ্যে জাহিদ সবুর একজন।

জাহিদ সবুর বেতন কত

গুগলে ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে, যাদের বেতন ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। এদের মধ্যে জাহিদ সবুর হলোন একজন। যার বেতন বাংলাদেশ টাকায় ২ কোটি টাকার বেশি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে